কুড়িতেই বুড়ি। রসিকতার ছলে উচ্চ আদতে মানুষ এই বয়সে বুড়ো হয় না। কিন্তু কুড়ি বছরে কারো কারো চুল পেকে যায়। স্বাস্থ্যগত বা মানসিক সমস্যার কারণে তা হতে পারে। এই পাকা চুল ঢাকতে পুরুষ কি মেহেদি ব্যবহার করতে পারবেন?
কিংবা পুরুষরা ঈদ বা বিয়ে শাদীর সময় হাত-পায়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য মেহেদী ব্যবহার করতে পারবেন কি?
পুরুষ চুল ও দাড়িতে মেহেদী ব্যবহার করতে পারবেন। তবে হাত-পায়ে বা শরীরের অন্য কোন অঙ্গে পারবেন না। কারণ হাদীসে এসেছে, নবীজী চুল ও দাড়িতে মেহেদি ব্যবহার করতেন। আবু দাউদ, হাদীস: ৪২১১
ফতোয়ার বিখ্যাত গ্রন্থ আলমগিরিতে বলা হয়েছে,
ويكره للرجل أن يخضب يديه ورجليه بالحناء لأنه من زينة النساء … أما الخضاب في اللحية والرأس فمستحب
পুরুষের জন্য হাতে-পায়ে মেহেদি ব্যবহার করা মাকরূহ।কারণ মেহেদী হলো নারীদের সাজসজ্জা। তাই পুরুষের জন্য হাতে-পায়ে মেহেদী ব্যবহার করা মাকরূহ। পুরুষরা বরং দাড়ি ও মাথার চুলে মেহেদী ব্যবহার করতে পারব। আলমগিরি: খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৩৫৮ ।
মেহেদির রং গাঢ় পেতে যা করবেন:
ইসলাম জীবন ঘনিষ্ঠ একটি ধর্ম। মানুষের জীবন সমস্যাকে ইসলাম এড়িয়ে যায়নি। বরং সমাধানের পথ বলে দিয়েছে। চিকিৎসার স্বার্থে পুরুষ শরীরে, অঙ্গ প্রত্যঙ্গে মেহেদি ব্যবহার করতে পারেন। ইসলাম এ সুযোগ দিয়েছে। আল বাহরুর রায়িক নামক কিতাবে বলা হয়েছে-
ويُكرهُ للرجالِ الخِضابُ بالحِنّاءِ؛ لأنه من زينةِ النساء، إلا من عِلّةٍ أو حاجةٍ إلى العلاج.
(البحر الرائق شرح كنز الدقائق، باب التشبه بالنساء، جـ 8، صـ 233)
পুরুষদের জন্য হাত পা ত্বকে মেহেদী ব্যবহার করা মাকরূহ। কারণ এটি নারীদের সাজ-সজ্জার অন্তর্ভুক্ত। তবে কোনো রোগের কারণে বা চিকিৎসাগত প্রয়োজন হলে ব্যবহার করতে অসুবিধা নেই। আল বাহরুর রায়িক, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ২৩৩
সাদা চুল কালো করতে কালো খেযাব ব্যবহারের প্রচলন আছে। স্বাস্থ্যগত কারণে কম বয়সে চুল সাদা হয়ে গেলে তা ব্যবহারে অনুমতি আছে। কারণ অল্প বয়সিরা সাদা চুল কালো করলে তার বয়স নিয়ে কেউ ধোঁকায় পড়বে না।
কিন্তু অল্প বয়সিরা কালো খেযাব ব্যবহার করতে পারলেও বয়স্করা তা পারবে না। চুল-দাড়ি পাকার বয়সিরা কালো খেযাবের বদলে মেহেদি ব্যবহার করতে পারবে।
নবীজি বলেন–
غَيِّرُوْا الشَّيْبَ، وَلَا تَشَبَّهُوْا بِالْيَهُوْدِ وَاجْتَنِبُوْا السَّوَادَ.
তোমরা বার্ধক্যের আলামত বা সাদা চুল দাড়িকে খেযাব দিয়ে বদলে দাও। তবে কালো রঙের খেযাব ব্যবহার থেকে বিরত থাকো। সুনানে কুবরা, বায়হাকী ৭/৩১১
মক্কা বিজয়কালের কথা। নবীজির কাছে হাযির সাদা ধবধবে দাড়ির হযরত আবু কুহাফা (রা.)। নবীজী তাকে বললেন,
غَيِّرُوْا هَذَا بِشَيْءٍ، وَاجْتَنِبُوْا السَّوَادَ.
বার্ধক্যের আলামত অর্থাৎ চুল-দাড়ির এই শুভ্রতা কোনো কিছু ব্যবহার করে বদলে দাও। তবে কালো ছাড়া। সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২১০২
এর কাছাকাছি অর্থের অন্য একটি হাদিস। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত। নবীজি বলেন-
إِنَّ أَحْسَنَ مَا غَيَّرْتُمْ بِهِ الشَّيْبَ الْحِنَّاءُ
তোমরা সাদা চুল পরিবর্তন করার জন্য যা ব্যবহার করো তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো মেহেদি। সুনানে আবু দাউদ : হাদিস নং-৪২০৫
মানুষ বড় স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দেয়। একজন মুমিনের জন্য জান্নাতপ্রাপ্তি সবচে বড় স্বার্থ। বার্ধ্যকে কালো খেয়াব ব্যবহার জান্নাত প্রাপ্তিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এক হাদীসে নবীজী বলেন-
«يَكُونُ قَوْمٌ يَخْضِبُونَ فِي آخِرِ الزَّمَانِ بِالسَّوَادِ، لا يَرِيحُونَ رَائِحَةَ الْجَنَّةِ
শেষ যামানায় একদল লোক এমন হবে যারা চুলে কালো রঙ দেবে। তারা জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। আবু দাউদ. হাদীস ৪২১২
যুদ্ধের ময়দানে নিজেকে শক্তিশালী ও তরুণ দেখানোর জন্য কালো খেয়াব ব্যবহার করা যাবে। কারণ যুদ্ধক্ষেত্রের কৌশল হিসেবে এর বৈধতা দেওয়া হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম যুদ্ধে কালো খেয়াব ব্যবহার করতেন। আল্লামা ইবনে আবিদিন রহ. বলেন,
ويجوز بالسواد في الجهاد؛ لما فيه من إرهاب العدو
যুদ্ধক্ষেত্রে কালো রঙ করা বৈধ। কারণ এতে শত্রুকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা যায়। রদ্দুল মুহতার, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪০৭,
অনেক ধর্মপ্রাণ পুরুষ নিজের হাত পা রঙিন করে মেহেদির রঙে।বয়স্করা ব্যবহার করে কালো খেযাব। এতে অমান্য হয় আল্লাহর আদেশ। মলিন ও ধুসরিত হয় আমলনামা। জান্নাত লাভের পথে তৈরি হয় বাঁধার দেওয়াল। এভাবে নিজের পরকালীন ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করা কি কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে?




