নাজিরুল ইসলাম:
বগুড়ায় অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে খাল পুনঃখনন কাজ করতে গিয়ে এলাকার প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদিত ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের ডাংগুরী খাল পাড়ের দুই পাশের জমিতে উৎপাদিত ফসলে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় এলাকার প্রান্তিক কৃষকেরা।
শুক্রবার ৮ মে সকাল সাড়ে ১০ টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় খাল খনন কাজের প্রস্তুতি চলছে। খালের দুই পাশস্থ এলাকার কিছু কৃষকের জমির চাষাবাদ করা নানা ধরনের ফসল বিনষ্টের অবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
এর আগে গত ৪ মে সোমবার বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন।
সরেজমিনে আড়িয়া ইউনিয়নের সোনাকানিয়া গ্ৰামের কৃষক রফিকুল ইসলাম (৫৫) বলেন, আমার এই খালের পাড়ে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ করা আছে। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যাবে। এখন এই খনন কাজ চলতে থাকলে জমির কিছু ফসল নষ্ট হবে। এতে আমার প্রায় ৪০ হাজার টাকা ক্ষতি সাধন হবে।
উপজেলার খরনা ইউনিয়নের গাড়িগাছা নতুনপাড়া গ্ৰামের কৃষক ইউনুস আলী (৩৫) সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, খালের পাড়ে আমার প্রায় ১বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষাবাদ করেছি। খাল খননের জন্য ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে ভুট্টার গাছ কেটে ফেলতে হচ্ছে। ফসল ঘরে তুলতে আর দুই চার দিন সময় লাগতে পারে। এমন অবস্থায় খাল খনন কাজ চলতে থাকলে জমির কিছু ফসল নষ্ট হবে। এতে আমার আনুমানিক প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে।
এছাড়াও আড়িয়া ইউনিয়নের বারআঞ্জুল দক্ষিণ পাড়ার কৃষক আশরাফ আলী (৬৫), খরনা ইউনিয়নের গাড়িগাছা নতুন পাড়ার দরিদ্র কৃষক আবুল হোসেন প্রামাণিক (৫৫) সহ খাল পাড়ের দুই পাশের বেশ কিছু নাম না জানা ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের জমির ফসল নষ্টের সচিত্র দেখা গেছে। ভুক্তভোগী কৃষকেরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেন, এই খাল খনন কাজে আমাদের কোনো বাঁধা নেই। কিন্তু যেসব জমির সফল ক্ষতি হচ্ছে সেদিকে আমরা সরকারের সুনজর কামনা করছি। সরকার যেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ান। পাশাপাশি আমরা স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করছি।
সংশ্লিষ্ট আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। সরকারি ভাবে তারা যেন কিছু আর্থিক সহায়তা পান সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াব।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, খাল খনন কাজে কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সেখানে কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ক্ষতি করার সুযোগ নেই। তারপরও ওই এলাকার চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।