বগুড়ার শাজাহানপুরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত খোরশেদ আলম (৩৮) মারা গেছেন। ঢাকায় উন্নত চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত ৫ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাদলা হাট এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহতের বাবা মো. আনসার আলী (৭০) এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় আটজনকে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা হলেন—মো. মাহফুজার (৪৬), তাঁর দুই ছেলে মো. জাফর (২৫) ও মো. জাহিদুল (২৪), মো. বেলাল (৭০), তাঁর তিন ছেলে মো. সেহজাদ (৪৫), মো. সুমন (৪০) ও মো. ফজল (৪০) এবং মো. সেহজাদের ছেলে মো. কিমন (২৩)। তাঁদের সবার বাড়ি উপজেলার মাদলা এলাকার বিভিন্ন পাড়ায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনার দিন খোরশেদ আলম মাদলা হাট থেকে বাজার করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে মতির ইলেকট্রিক দোকানের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাঁর পথরোধ করেন। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথা, বুক, পেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় তাঁর কাছে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। অবশেষে রোববার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে, হামলার ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে পাল্টা হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরপর এসব ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।