বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আশেকপুর ইউনিয়নের শাবরুল গ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে পরস্পরবিরোধী একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে ক্ষোভ জমে ওঠে।
এরই জেরে রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে জলিল বাহিনীর সহযোগী সাগর (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয় স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বড় হিন্দুপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বিষু দাসের কাছে চাঁদা দাবি করে জলিল বাহিনী। চাঁদা না পেয়ে শনিবার সকালে তার পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরে নিয়ে যায় তারা। একইভাবে ছোট হিন্দুপাড়ার নয়ন্দ্রী দাসের পুকুর থেকেও মাছ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
রোববার সকাল ১০টার দিকে শাবরুল বাজার এলাকায় জলিল ও তার সহযোগীরা অবস্থান করলে প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া করে। এসময় জলিল পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী সাগর ও গৌরকে আটক করে গণপিটুনি দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
পরে আহত অবস্থায় তাদের চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে শাবরুল উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক মোনয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি। চাঁদাবাজি ও অত্যাচারের প্রতিবাদেই মানুষ একত্রিত হয়েছে। তিনি আরও জানান, এলাকায় জলিল বাহিনী ছাড়াও জালাল-ইমন এবং আপেল-তারেক নামে আরও দুটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সংবাদ বুলেটিনকে জানান, সন্ত্রাসীদের ভয়ে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আছেন। তারা নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন।
শাজাহানপুর থানার ওসি মো. আশিক ইকবাল সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, চাঁদাবাজি ও মাছ লুটের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রোববার সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৌরকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।