বগুড়ায় জেলা পুলিশে কর্মরত এক কনস্টেবলের বিরুদ্ধে নিজের ১২ বছর বয়সী শ্যালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত কনস্টেবল সুমন রেজা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
মামলাটি করেছেন সুমন রেজার স্ত্রী লাবণ্য আক্তার। গত ১২ জুন বগুড়ার শাজাহানপুর থানায় দায়ের করা এ মামলার তথ্য শনিবার দিবাগত রাতে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুন দুপুর ৩টার দিকে লাবণ্য আক্তারের ১২ বছর বয়সী বোন প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু এরপর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন এ ঘটনায় শাজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে কনস্টেবল সুমন রেজা মোটরসাইকেলে করে ওই কিশোরীকে নিয়ে যান। পরে তাঁকে আসামি করে অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে অভিযুক্ত সুমন রেজার বিরুদ্ধে এর আগেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ মে তিনি আরও তিন কনস্টেবলকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশের সদস্য পরিচয় দিয়ে বগুড়া চতুর্থ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) কার্যালয়ে যান। সেখানে এপিবিএন সদস্য তানজিমকে ডেকে তাঁর মোটরসাইকেলটি চোরাই বলে দাবি করেন এবং ডিবি অফিসে নেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে চলে যান। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে বলে জানা গেছে।
ওই ঘটনায় ভুক্তভোগী সদস্য তানজিম পুলিশ সুপারের কাছে মৌখিক অভিযোগ করলেও পরবর্তীতে লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় সুমন রেজার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান বলেন, “কনস্টেবল সুমন রেজা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে একজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে।