বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার চোপীনগর ইউনিয়নের বড় পাথর পূর্বপাড়া গ্রামে এক স্কুলছাত্র তার মায়ের বিরুদ্ধে দোকানের কর্মচারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছে। তবে অভিযুক্ত কর্মচারী এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মাকে হেয় করতে ছেলে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের ফার্মেসি ব্যবসায়ী সামছুল ইসলাম ২০২৫ সালের জুন মাসে স্ট্রোক করে মারা যান। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ফাতেমা আক্তার স্বামীর ফার্মেসি দোকান পরিচালনার দায়িত্ব নেন। এ সময় দোকানের কর্মচারী আতিকুল ইসলাম নয়ন তাকে সহযোগিতা করেন। পরে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ ওঠে।
সামছুল ইসলামের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে সাবিকুর রহমান সংবাদ বুলেটিনকে জানায়, দোকান পরিচালনার সময় তার মা ও কর্মচারী নয়নের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সে কয়েকবার মাকে বাধা দেয়। কিন্তু তার মা কথা না শুনে উল্টো ক্ষিপ্ত হন।
সে আরও জানায়, গত বুধবার সকালে এ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তার মা ছুরি নিয়ে তাকে আঘাত করতে উদ্যত হন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
সাবিকুর রহমানের অভিযোগ, তার বাবা মারা যাওয়ার পর কৌশলে দরিকুল্ল্যা স্ট্যান্ডে অবস্থিত ভাড়া নেওয়া ফার্মেসি দোকানটি নিজের নামে চুক্তি করে নিয়েছেন তার মা। দোকানটির জন্য আগে ৭০ হাজার টাকা জামানত দেওয়া হয়েছিল বলেও দাবি করে সে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠকও হয়েছে।
এ বিষয়ে সামছুল ইসলামের ছোট ভাই তাজ উদ্দিন মণ্ডল সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, “আমার ভাবীর চরিত্র ভালো নয়। নয়নের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় সবাই জানে। আমরা নিষেধ করলে উল্টো মামলা-হামলার ভয় দেখানো হয়।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আতিকুল ইসলাম নয়ন সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, আমি দোকানের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। ফাতেমা বেগমের সঙ্গে আমার কোনো অনৈতিক সম্পর্ক নেই। এলাকার লোকজন মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। শুনেছি মা-ছেলের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ চলছে।
এ বিষয়ে জানতে ফাতেমা আক্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় শুনে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।