‘অনেক আপত্তি করেছিলাম। কেউ কথা শোনেননি। অ্যাসকেভেটর দিয়ে খাল গভীর করে খনন করায় এখন জমি ভেঙে খালের মধ্যে চলে যাচ্ছে। আমার জমির মাঝখান দিয়ে খাল কেটে দেওয়ায় দুই পাশেই ভাঙন শুরু হয়েছে।’
কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের সোনাইদিঘী গ্রামের কৃষক লয়া মিয়া (৫৫)। ডাঙ্গুরী খাল খননের পর নিজের আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
শুধু লয়া মিয়াই নন, খালের দুই পাড়ের আরও বেশ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেছেন, অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন এবং অ্যাসকেভেটর ব্যবহারের কারণে তাদের আবাদি জমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। খননের পর থেকে জমি ধসে খালের মধ্যে চলে যাচ্ছে।
একই গ্রামের কৃষক ইদ্রিস আলী (৪৫) সংবাদ ঐজানান, খালের পাশে থাকা তার ৩৩ শতক জমির মধ্যে প্রায় ১৫ শতক ইতোমধ্যে খালের মধ্যে চলে গেছে। এখনো ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
কৃষকদের দাবি, কাজ শুরুর আগে তারা আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। বরং সরকারি কাজে বাধা দিলে মামলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। জমিতে ফসল থাকা অবস্থায় খনন শুরু হওয়ায় ফসলও নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলেও অভিযোগ করেন তারা। 
তবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মনিরুজ্জামান মনির অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, খননের সময় স্থানীয়দের অনাপত্তি ছিল। সরকারি নকশায় খালের প্রস্থ ১৮ ফুটের কিছু বেশি থাকলেও বাস্তবে প্রায় ২০ ফুট করা হয়েছে। এতে কিছু ব্যক্তিগত জমি খালের মধ্যে পড়েছে, এটি সত্য। তবে জমির মালিকদের অনুমতি নিয়েই কাজ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে।
এদিকে আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। যাচাই শেষে স্থানীয়ভাবে আর্থিক সহায়তার চেষ্টা করা হবে। তবে এ খাতে সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই। 
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তাইফুর রহমান বলেন, খাল খনন প্রকল্পে ক্ষতিপূরণের কোনো সরকারি বিধান নেই। তবে অন্য কোনো প্রকল্প থেকে সহায়তার সুযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে গত ৪ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ১ হাজার ৬৬২ মিটার দীর্ঘ ডাঙ্গুরী খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়। প্রকল্পে ১০১ জন শ্রমিক কাজ করেন। মোট বরাদ্দ ছিল ৩৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৯৩ টাকা। এর মধ্যে শ্রমিকদের মজুরিতে ব্যয় হয়েছে ১৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, গাছ রোপণে ব্যয় হয়েছে ৩ লাখ টাকার বেশি এবং অব্যয়িত ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। 
তবে প্রকল্পে শ্রমিক হিসেবে কাজ করা বোরহান আলী দাবি করেন, খননকাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অ্যাসকেভেটর দিয়ে করা হয়েছে। শুরুতে শুধু অ্যাসকেভেটর এবং পরে শ্রমিকদের সঙ্গে সমন্বয় করেও কাজ করা হয়।
অ্যাসকেভেটর ব্যবহারে কত টাকা ব্যয় হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, এ মুহূর্তে তার কাছে সেই হিসাব নেই।