বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ী বাইপাস এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে মহাসড়কে লাশ রেখে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।
সড়ক দুর্ঘটনায় চামেলী বেগম (২৭) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু ও তাঁর তিন বছরের সন্তানের পা হারানোর ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
জানা যায়, গত বুধবার বিকেলে রমজানের বাজার সেরে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন বেতগাড়ী উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ট্রাকচালক জুয়েলের স্ত্রী চামেলী বেগম ও তাঁদের তিন বছরের ছেলে সোয়াদ। বেতগাড়ী বাইপাস মোড়ে একটি যাত্রীবাহী বাস অটোরিকশাটিকে চাপা দিলে তারা গুরুতর আহত হন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চামেলী মারা যান। সংকটাপন্ন অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহতের মরদেহ নিয়ে বাইপাস মোড়ে অবস্থান নেন কয়েকশ গ্রামবাসী। তারা সেখানে ফ্লাইওভার নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। অবরোধের ফলে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে।
এ সময় ঢাকা থেকে বগুড়া ফেরার পথে অবরোধে আটকা পড়েন বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন। এলাকাবাসী তাঁর গাড়ি ছেড়ে দিতে চাইলে তিনি গাড়ি থেকে নেমে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া শোনেন। পরে তিনি মুঠোফোনে বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে আলোচনা করেন।
সংসদ সদস্য নিহতের পরিবারকে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেন। তিনি বলেন, এ এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণের যৌক্তিক দাবি সংশ্লিষ্ট মহলে উপস্থাপন করা হবে।
অবরোধ চলাকালে সাবেক কাউন্সিলর খোরশেদ আলম, বিএনপি নেতা ফয়সাল হোসেন লাবন ও মাসুম সরকার বক্তব্য দেন। তারা বলেন, একটি ফ্লাইওভার না থাকায় এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
পরে আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।