আসন্ন নির্বাচনে আট দলীয় জোটের পক্ষ থেকে কে পাচ্ছেন মনোনয়ন, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত আট দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী কে হবেন– এ নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিই দাবি করছেন জোটের শরিকরা। এতে বছরখানেক আগে থেকে জনসংযোগ করে আসা জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
আট দলীয় জোটের একাধিক সূত্র জানায়, আট দলীয় জোটের সঙ্গে এনসিপিসহ (জাতীয় নাগরিক পার্টি) একাধিক দল যুক্ত হওয়ার আলোচনা চলছে। ফলে জোটের শরিকরা মৌলভীবাজারের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিই দাবি করছে। মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন ইসলামী আন্দোলন, মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসন খেলাফত মজলিস ও মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীদের ছাড় দিতে জোর দাবি জানিয়েছেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
মৌলভীবাজার-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুছ, মৌলভীবাজার-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আহমদ বিলাল ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা নূরে আলম হামিদী জোট থেকে মনোনয়ন পেতে নিজ নিজ দল থেকে শুরু হয়েছে জোর তৎপরতা।
অন্যদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ও সিলেট বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রীতম দাশ মৌলভীবাজার-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার লক্ষ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এতে বছরখানেক ধরে তৃণমূলে জনসংযোগ করা জামায়াত প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীর মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
জামায়াতে ইসলামীর দলীয় সূত্র জানায়, মৌলভীবাজার জেলার চারটি আসনে চলতি বছরের গত মার্চ মাসের শুরুতে দলটি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করে। ফলে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার সাহেদ আলী, দলটির জেলা কমিটির সাবেক আমির আব্দুল মান্নান মৌলভীবাজার-৩ আসনে ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে সিলেট মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রবকে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। তখন থেকে তারা জেলা-উপজেলায় কার্যক্রম শুরু করেন। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী তারা নির্বাচন অফিস থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন।
মৌলভীবাজার অঙ্কন প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী কবি মহিদুর রহমান বলেন, ভোটার তথা জনসমর্থনের হিসেবে বিভিন্ন আসনে বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে অন্যান্য দলের প্রার্থী থেকে জামায়াত প্রার্থীরা এগিয়ে থাকবেন। তাদের তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। তবে নির্বাচনী লড়াইয়ে ফলাফল বিএনপির ঘরেই ওঠার সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনটিতে সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিক ভোটের আধিক্য রয়েছে। ফলে এ আসনটিতে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা এর আগের বেশির ভাগ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। সূত্র: সমকাল