আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) বাফার সার গুদামে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
সরবরাহকৃত সার ওজনে ঘাটতি, নিয়মপরিপন্থীভাবে সরাসরি মেঝেতে সার ঢেলে ময়লা-আবর্জনাসহ রি-ব্যাগিং করার অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের সুযোগ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের একটি অংশ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। ফলে দায়িত্ববানদের নজরদারির মধ্যেই নিয়মবহির্ভূতভাবে সার প্যাকিং ও সংরক্ষণের কাজ চলছে। এতে কয়েক বছর দায়িত্ব পালন করেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এরমধ্যে সান্তাহার সার গুদামের সাবেক কর্মকর্তা নবীর উদ্দিনকে ঘিরে দুর্নীতি ও দুদকের ১৫৩ কোটি টাকার মামলার ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে এখনো বেশ আলোচিত।
জানা যায়, সান্তাহার সান্দিড়া বিএডিসি ও বিসিআইসির সার সংরক্ষণ এবং বিতরণের জন্য প্রায় ২৫ হাজার টন ধারণক্ষমতার বাফার সার গুদাম রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফাঁটা ও ছেঁড়া বস্তার সার নতুন বস্তায় ভরার সময় রি-ব্যাগিং নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে না। মেঝেতে সরাসরি সার ঢেলে বাছাই ছাড়াই শ্রমিকদের দিয়ে আবর্জনা সহকারে মোড়কজাত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সার ময়লা-আবর্জনার সংস্পর্শে থাকায় গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। যা সার নীতিমালার পরিপন্থী ও দণ্ডনীয় অপরাধ। নিয়মানুসারে, ছেঁড়া বস্তার সার রি-ব্যাগিংয়ের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। উপযুক্ত প্লাস্টিক বা টারপোলিন শিট বিছিয়ে তার ওপর সার রেখে ছাঁকন, ওজন এবং পুনরায় বস্তাবন্দি করার ব্যবস্থা থাকার কথা। কিন্তু সান্তাহার বাফার সার গুদামে এসব নিয়ম যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। রাসায়নিক সার মেঝের স্যাঁতসেঁতে ভাবের সংস্পর্শে থাকলে জমাট বাঁধা কিংবা গুণগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তনের আশঙ্কা থাকে। ফলে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করলে কৃষক পর্যায়ে নিম্নমানের সার পৌঁছানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এদিকে গুদামে সরবরাহ করা সারের ওজন নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। নির্ধারিত ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় কখনো কখনো কম সার পাওয়া গেলেও তা নামানো হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ওজনে ঘাটতি থাকা সারের সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হচ্ছে না। এতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে এবং গুদাম সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাফার গুদামের একাধিক শ্রমিক জানান, ফাঁটা ও ছেঁড়া সার মেঝেতে নামিয়ে বেলচা ও ঝাড়ু দিয়ে সংগ্রহ করে বস্তায় ভরা হয়। এ প্রক্রিয়া নিয়মসিদ্ধ কি না জানতে চাইলে তারা বলেন, এ বিষয়ে জানা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে সান্তাহার বাফার গুদামের বিসিআইসির ইনচার্জ হাসানুর রহমান হাসান জানান, মেঝেতে সার ঢেলে মোড়কীকরণ করা তথ্যটি এখানকার নয়। আর সার ওজনে কম দেওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।
বিসিআইসির মহাব্যবস্থাপক কে. এম. মাকসুদুল আলম জানান, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে আমাকে অফিসিয়ালি কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আপনারা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অথবা চেয়ারম্যান স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিসিআইসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।