
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ থেকে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সাইন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। এ সময় প্রায় দুই ঘন্টা সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের নগরীর প্রায় এক কিলোমিটার অংশ রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকাল ৪টার দিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে আখালিয়া এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১২ বছর বয়সী এক শিশু, ২০ জন শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রাবার বুলেট ছুড়ে আটজন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে।
কর্মসূচির শুরু থেকে ঘটনাস্থলে সরজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যে বেলা তিনটা থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) পাশের সুরমা আখালিয়া এলাকায় গণমিছিলের জন্য একত্রিত হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষজনও সেখানে জড়ো হন। বিকেল চারটার দিকে গণমিছিল নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী-জনতা বের হতে চাইলে পুলিশ বাঁধা দেয়। তখন পুলিশি বাঁধা অতিক্রম করে আন্দোলনকারীরা সামনে এগিয়ে যায়। গণমিছিলটি সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক হওয় নগরীর প্রবেশমুখের আখালিয়া এলাকার মাউন্ড এডোরা হসপিটালের সামনে পৌঁছালে পুলিশ মিছিলের পেছন দিক রাবারবুলেট, টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপরই পুলিশ সাউন্ডগ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এরপর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা পুলিশের দিকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কে বিভিন্ন জায়গা ব্লøক করে দেয়।
এদিকে পুলিশের হামলা শিকার হয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা আশপাশের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় প্রবেশ করে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের একাংশ আখালিয়া নয়াবাজার এলাকার গলিতে, একাংশ মাউন্ড এডোরা হসপিটালের গলিতে, একাংশ কালীবাড়ি এলাকার গলিতে, একাংশ মদিনামার্কেট এলাকার গলিতে প্রবেশ করে। এসব এলাকা সংলগ্ন সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক ব্লক করে স্লোগান দিচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। বিকেল চারটা থেকে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের এই সংঘর্ষ শুরু হয়। পাঁচ ৪০ মিনিট পর্যন্ত এ রিপোর্ট লেখাকালেও সংঘর্ষ চলছিল। সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়কের তেমুখী থেকে নগরীর মদিনমার্কেট এলাকায় পুলিশের অবস্থান রয়েছে।
এরআগে গতকাল রাতে গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিলেটবাসীকে মসজিদে জুম্মার নামাজ শেষে দোয়া-কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সকল প্রার্থণালয়ে প্রার্থনার আয়োজন ও ছাত্র-জনতা মিলে গণমিছিলের আহবান করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শাবিপ্রবি এবং সিলেট সমন্বয়ক টিম। ছাত্র-শিক্ষক-কৃষক-শ্রমিক-জনতাকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের আহবান জানান তারা।
আন্দোলনের সমন্বয়ক টিম সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষজনও আহত হয়েছেন। পুলিশ আহত অবস্থায় অনেক শিক্ষার্থীকে আটক করেছে। এরমধ্যে আটজনের তালিকা তারা পেয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গণমিছিল থেকে সহিংসতা ছড়ানোর আশঙ্কা থাকায় পুলিশ শাবিপ্রবি ফটক থেকে নগরমুখী হওয়ার পর বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ সহিংতা সৃষ্টিকারীদের ধাওয়া করে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সাউন্ড গ্রেনেডসহ রাবার বুলেট ছোড়া হয়।