সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিলেট সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, সীমান্তে অনাকাঙ্খিত মৃত্যু একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয়। দরিদ্র মানুষজন যাতে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম না করেন সে জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সীমান্তে চোরাচালনে গুটিকয়েক মানুষ জড়িত। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ ছাড় পাবে না। সবার চেষ্টায় চোরাচালান শূন্যের কোটা নামিয়ে আনা সম্ভব।
সুনামগঞ্জে মঙ্গলবার সীমান্তে অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ, চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ধনপুর ঈদগাহে দুপুরে এই সভা হয়।
এতে প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবির কর্মকর্তা ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বিজিবির উদ্যোগে বিনামূল্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ প্রদান করা হয়।
কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, সীমান্তে চোরাচালানে যুক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি সহায়তা করবে। যাদের যা প্রয়োজন জাল, বীজ, ছোট দোকান, সেলাই মেশিন দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে বিজিরি প্রায় চারশ সদস্য বাড়ানো হয়েছে। সীমান্তে টহল বেড়েছে। এরপরও অনেকেই ঝুঁিক নিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেন। এতে অনেকের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। এটা বন্ধ করতে হবে।
চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয় মানুষদের দায়িত্ব আছে উল্লেখ্য করে বিজিবির এই কর্মকর্তা বলেন, বিজিবি, প্রশাসন, পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে, মানুষ সচেতন হলে চোরাচালান কমে আসবে। অনেকেই গবাদিপশু আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু আমাদের দেশ গবাদিপশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জে বিজিবির ২৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এ কে এম জাকারিয়া কাদির, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মফিজুর রহমান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রাজ্জাক, স্থানীয় ধনপুর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল হালিম, ধনপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিজিবির সুনামগঞ্জ ২৮ ব্যাটালিয়েনের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম।