সেচ্ছাসেবী সংগঠন নিয়ে সংগঠকদের ভাবনা
সাজ্জাদুর রহমান
সমাজের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে, আর্তমানবতার সেবায়, চারিত্রিক উন্নয়ন, নেতৃত্বের গুণাবলী অর্জনসহ বিভিন্ন লক্ষ্যে নিয়েই যাত্রা পথচলা সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর।
এসব সংগঠনে ব্যাক্তিস্বার্থ কিংবা কোনো নিদিষ্ট গোষ্ঠির স্বার্থ থাকেনা। সমাজ,রাষ্ট কিংবা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহমর্মিতার সহিত শেখায়,মানুষ মানুষের জন্য,জীবন জীবনের জন্য।
এসব সংগঠনে যারা যুক্ত থাকে, তারা যে শুধু অপরের কল্যাণ করে,শুধু তাই নয় এর সাথে তাদের নিজের জীবনেও আসে অসাধারণ পরির্বতনের মোড়।তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ভূমিকা অনেক। এ বিষয়ে মতামত ও যুক্ত থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে জানাচ্ছিলেনবেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সংগঠকরা।
নিয়মানুবর্তিতা ও সুশৃঙ্খল জীবন গঠনে সামাজিক সংগঠন
বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানের আতুরঘর বলার অন্যতম কারণ হচ্ছে রিসার্চ, লেখালিখি ও একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আমাদের পরিস্ফুটিত করে। বাহ্যিক পরিস্ফুটিত হওয়ার অন্যতম বাহন হচ্ছে সংগঠনগুলো। প্রত্যেকটি সংগঠনের প্রতি মাসে সিনিয়র জুনিয়র মিলে পাঠচক্র, বুক রিভিউ, আলোচনা সভা ইত্যাদি হয়ে থাকে। আমরা যখন কোন সংগঠনের সদস্য হই, তখন আমরা ওই সংগঠনের নির্দিষ্ট নিয়ম এবং শৃঙ্খলা মেনে চলতে সম্মত হই। আমরা চাইলেও সেসব নিয়ম থেকে বাইরে যেতে পারিনা বা উচিত নয়। এই নিয়মগুলি আমাদেরকে সিনিয়র জুনিয়রের মধ্যে কিংবা একে অপরের সাথে সম্মানের সাহিত আচরণ করতে, আমাদের দায়িত্ব পালন করতে এবং সংগঠনের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। ফলে আমাদের মধ্যে নিয়মানুবর্তিতা ও শৃঙ্খলবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মোঃ মমিনুর রহমান
সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা
সংগঠনে কাজ করা মানে পড়াশোনায় ক্ষতি কিংবা সময় নষ্ট নয়
সংগঠন করা মানুষ অন্যদের চেয়ে অনেকাংশেই আলাদা। নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার একমাত্র জায়গা হলো সংগঠন। অনেকের মধ্যেই একটা ভ্রান্ত ধারণা থাকে, সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলে পড়াশোনার ক্ষতি হয় বা সময় নষ্ট হয়, যা একদমই সঠিক নয়।
বিভিন্ন সংগঠনে যুক্ত হয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করলে তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ইতিবাচক গুণাবলীর সঞ্চার হয় যেমন- সময় ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্বগুণ তৈরী, গুছিয়ে কথা বলার দক্ষতা, নেটওয়ার্কিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা যা জড়তা দূর করে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, নিজের মতামত প্রকাশ এবং অন্যের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা ইত্যাদি তৈরী করে। এছাড়াও জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা, সাম্প্রতিক বিষয়াবলি সম্পর্কে সম্যক ধারণালাভ ইত্যাদি আরো অনেক বিষয় জানার মাধ্যমে আত্মউন্নয়নের পাশাপাশি দেশসেবায় ভূমিকা রাখা সম্ভব।
সর্বোপরি, একজন সংগঠন করা মানুষ, সংগঠন না করা মানুষের চেয়ে আলাদা হয়।
সাঈদুর জামান বাপ্পি
সাবেক সভাপতি, বেগম রোকেয়া ইউনিভার্সিটি ডিবেট অ্যাসোসিয়েশন (ব্রুডা)
যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায় সংগঠন
বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে সকল ছাত্র-ছাত্রীর প্রতিভা প্রকাশের একটি স্বাধীন জায়গা।একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বা ছাত্রী বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী হয়ে থাকে।আর তাদের এসব প্রতিভা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে থাকা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো।এসকল সংগঠন একজন ছাত্র বা ছাত্রীকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে পারদর্শী করে তুলছে। ফলে তাদের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্বের বিকাশ ঘটছে।তাই আমি সবার উদ্দেশ্যে বলবো,আপনারা শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে আবদ্ধ না থেকে এসব সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হয়ে নিজের প্রতিভাকে বিকশিত করবেন।
নিরঞ্জন রায়
সিনিয়র রোভারমেট
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ।
দায়বদ্ধতা থেকেই কাজ করে সামাজিক সংগঠন
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের পড়াশোনার সকল খরচ সাধারণ মানুষের থেকে আসে। তাদের কষ্টের টাকায় আমরা পড়াশোনা করি তাই অবশ্যই আমাদের তাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকে। স্বপ্নসিঁড়ির একঝাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মিলে স্টেশনের পাশের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান করাই। যাতে তারা নষ্ট না হয়ে যায়। অনেক উন্নত দেশে কোনো কোনো বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে কাজ করার অভিজ্ঞতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলিকে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি ঐচ্ছিক বিষয় যুক্ত করার অর্থ হলো যাতে তাদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানবিক চেতনা জাগ্রত করা; যার অন্যতম একটি লক্ষ্য অল্প বয়স থেকে শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ব করা। তাই আমি বলবো সবাই মানুষের পাশে দাড়াই। যে যেভাবেই পারে মানুষের উপকার করার চেষ্টা করুক। সামাজিক সংগঠন অবশ্যই দায়বদ্ধতা থেকেই কাজগুলো করে।
সাধারণ সম্পাদক
ফাতিহুল ইসলাম শোভন
স্বপ্নসিঁড়ি(স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন)
সংগঠন করা শিক্ষার্থীদের কিছু অন্যন্যা বৈশিষ্ট্য
সংগঠন করা শিক্ষার্থীদের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য এবং অভ্যাস থাকে যা তাদের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা করে তোলে। এই বৈশিষ্ট্য গুলোর মধ্যে আছে সময় ব্যবস্থাপনা,গোল নির্ধারণ,কর্ম পরিকল্পনা, মনোযোগ ও ফোকাস,উৎপাদনশীল অভ্যাস ইত্যাদি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো একজন শিক্ষার্থীকে তার শিক্ষাজীবন এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ারে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে সহযোগিতা করে।
সংগঠন করা শিক্ষার্থীরা অনেকের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান যার ফলে সে একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর
তুলনায় অনেক কিছু শেখার পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং,কমিউনিকেশন স্কিল,প্রেজেন্টেশন স্কিল এ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। আর বর্তমান সময়ে নেটওয়ার্কিং এর গুরুত্ব যে কতটা তা আমরা সবাই জানি।
সংগঠন করা শিক্ষার্থীরা ফ্লুয়েন্টলি পাবলিক স্পিকিং করতে সক্ষম হওয়ায় নিজেকে অন্যের সামনে উপস্থাপন করার সক্ষমতা লাভ করা,নিজের ফ্রেন্ড সার্কেলের গণ্ডির বাইরে যেয়ে কিছু করতে পারার ব্যাপারটা যা সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে তাদের আলাদা করে।