এদিকে তীব্র গরমের মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের কারণে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভয়াবহ লোডশেডিং
গত দু’দিন ধরেই ভয়াবহ লোডশেডিং হচ্ছে। তবে সুচতুরভাবে সরকার ঢাকায় কিছুটা কম লোডশেডিং করে সারাদেশে বেশি লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার বাইরে গ্রামগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা ভয়াবহ। সরকারি হিসেব বলছে, গত ২৮ জুন রাত ২টায় গত দুই দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪৩১ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হয়েছে। ওই সময় দেশের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫০৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে উৎপাদন ছিল ১৩ হাজার ৭৩ মেগাওয়াট। সরল হিসাব করলে, রাত ২টা থেকে ৩টা দেশের ২১ ভাগ এলাকাকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখতে হয়েছে।
সরকারের তরফ থেকে বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় সংসদে বলেছেন, কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটির কারণে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হচ্ছে। এজন্য এই লোডশেডিং।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সংসদে এসে এলাকার মানুষের জন্য মন্ত্রীর কাছে বিদ্যুৎ চাইছেন সংসদ সদস্যরা।
পিজিসিবি ঘণ্টা প্রতি যে লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায় প্রতি ঘণ্টায়ই লোডশেডিং করে পরিস্থিতি সামলাতে হচ্ছে। দিন-রাতের এমন কোনও সময় নেই যখন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে।
রাজধানীতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট
মানিকনগর, কলাবাগান, শান্তিনগর, রায়সাহেব বাজার, রামপুরা, ধানমন্ডির কিছু এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনেক বাসিন্দা জানান, দিনে কয়েকবার এবং গভীর রাতেও বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্যান, এসি ও পানির পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যদিনের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
ডিপিডিসির পরিচালক (অপারেশন) মো. রবিউল হাসান জানান, তাদের এলাকায় লোডশেডিং খুবই কম। অপরদিকে ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহমেদ বলেন, “তাদের আওতায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে রাজধানীর অনেক এলাকায় বাসিন্দারা দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন।”
ঢাকার বাইরে আরও বেশি ভোগান্তি
শুধু রাজধানী নয়, ঢাকার বাইরের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় দিনে কয়েক দফা এবং কোথাও কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি সেচ ও ক্ষুদ্র শিল্প উৎপাদনেও এর প্রভাব পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত কোনও সময়সূচি ছাড়াই আধা ঘণ্টা থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা
বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, তীব্র গরমে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও কারিগরি ত্রুটি এবং লাইন রক্ষণাবেক্ষণের কাজের কারণেও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
মন্ত্রীর দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে
এদিকে সোমবার জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আবার চালু হওয়ায় দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে এবং লোডশেডিং অনেকটাই কমে এসেছে।” তিনি জানান, বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, বিপরীতে চাহিদা ১৪ হাজার ৮৩৯ মেগাওয়াট। ফলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ ৩৩৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। কিছু এলাকায় এখনও সীমিত আকারে লোডশেডিং থাকলেও তা দ্রুত কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন
