মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম রিপন:
বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কামার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়–এর আঙিনায় তাঁর পদচারণা ছিল টানা ৩৭ বছর। একটি প্রজন্ম নয়, একাধিক প্রজন্ম তাঁর স্নেহ, শাসন আর প্রজ্ঞার ছোঁয়ায় গড়ে উঠেছে। শ্রেণিকক্ষের চক-ধুলোমাখা দিনগুলোতে তিনি শুধু পাঠ্যবইয়ের অক্ষর শেখাননি—শেখিয়েছেন সততা, ন্যায্যতা, দায়িত্ববোধ আর মানুষ হয়ে ওঠার পাঠ।
আবু জাফর স্যারের জীবনের যৌবন, স্বপ্ন আর সমস্ত কর্মস্পৃহা যেন এই বিদ্যালয়ের চার দেয়ালের মধ্যেই গড়ে উঠেছে, বিকশিত হয়েছে। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন ন্যায়ের প্রতীক; শিক্ষার্থীদের কাছে আস্থার আরেক নাম। কোনো অন্যায় দেখলে আপসহীন, আবার কোনো ছাত্র বিপদে পড়লে প্রথম আশ্রয়স্থল—এই ছিল তাঁর স্বভাব।
বিদ্যালয়ের ফলাফল উন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রাণসঞ্চার—সবখানেই ছিল তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্ব। বহু সময় নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করেছেন নিরলসভাবে। তাঁর হাত ধরেই অনেক শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত, সমাজের নেতৃত্বে আসীন। তাঁদের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক নীরব কারিগরের অবদান—আবু জাফর স্যার।
অবসরের দিনটিতে বিদ্যালয়ের আঙিনা ছিল আবেগে ভেজা। সহকর্মীদের চোখে জল, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ভারী অনুভূতি। বিদায়ী সংবর্ধনায় কেউ বললেন—“স্যার আমাদের শুধু পড়াননি, মানুষ বানিয়েছেন।” কেউ বললেন—“আপনি থাকবেন আমাদের হৃদয়ে, প্রতিটি অর্জনের অনুপ্রেরণায়।”
৩৭ বছরের কর্মজীবনের ইতি টেনে তিনি হয়তো নিয়ম অনুযায়ী অবসরে গেলেন, কিন্তু তাঁর আদর্শ, তাঁর শেখানো নীতিবোধ, তাঁর স্নেহমাখা উপদেশ—এসব কখনো অবসর নেয় না। এগুলো বেঁচে থাকবে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হৃদয়ে, প্রতিটি সফলতার গল্পে, প্রতিটি নৈতিক সিদ্ধান্তে।
প্রিয় আবু জাফর স্যার,
আপনার অবসর হোক শান্তিময়, সুস্থ ও আনন্দময়।
আপনার বপন করা আদর্শের বীজেই একদিন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে কামার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়–এর আকাশ।