বগুড়ায় চলতি মৌসুমে লাভের আশায় আলু চাষ করে চরম লোকসানে পড়েছেন কৃষকরা। নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মাত্র ৮ থেকে ৯ টাকায়। এর সঙ্গে প্রতি বস্তায় অতিরিক্ত খাজনা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। উৎপাদন ভালো হলেও ন্যায্য দাম না পাওয়ায় গত বছরের মতো এবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা।
শাজাহানপুর উপজেলার চাঁদবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, তিনি ২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। প্রতি বিঘায় ৪০ থেকে ৪৫ বস্তা (প্রতি বস্তা ৬০ কেজি) ফলনের আশা করছেন। বর্তমানে প্রতি বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। এতে বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হলেও খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। ফলে বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হবে বলে জানান তিনি।
মানিকদীপা বিন্নাচাপড় গ্রামের কৃষক নুরুন্নবী বলেন, ১ বিঘা জমিতে আলু চাষে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু বিক্রি করে পেয়েছেন মাত্র ২৫ হাজার টাকা। 'গত বছরের মতো এবারও লোকসান'—আক্ষেপ তার।
খোদাবন্দবালা গ্রামের কৃষক আতিকুল ইসলাম বলেন, আলুর বাজারদর স্থিতিশীল করতে সরকারি হস্তক্ষেপ জরুরি। তিনি কৃষকদের বাঁচাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ব্যবসায়ী সুলতান আহমদ জানান, বাজারে চাহিদা কম থাকায় আলু বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক কৃষক ঋণ করে চাষ করেছেন; কম দামে বিক্রি করায় তারা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৫০ হেক্টর জমির আলু ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিনা খাতুন বলেন, উৎপাদন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কৃষি বিভাগ কাজ করছে; বাজারদর নির্ধারণ কৃষি বিপণন বিভাগের বিষয়। তবে নতুন সরকারের মাধ্যমে আলু রপ্তানির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত ও বাজার স্থিতিশীল করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষীরা।