মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম রিপন:
২০০২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সদিচ্ছা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শাজাহানপুর উপজেলা গঠিত হয়।
ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে বগুড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা শাজাহানপুর। তবে স্থানীয়দের দাবি, সম্ভাবনাময় এ উপজেলাটি প্রতিষ্ঠার দুই যুগ অতিবাহিত হলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেকটাই বঞ্চিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ ও প্রত্যাশা বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও শাজাহানপুরে সেই তুলনায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন কম হয়েছে। বিশেষ করে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ক্ষেত্রে শাজাহানপুরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। এ বিষয়ে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা দূর করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) শাজাহানপুর উপজেলা শাখার সভাপতি ও গণমাধ্যম কর্মী সাজেদুর রহমান সবুজ সংবাদ বুলেটিনক বলেন, “উপজেলা প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও অনেক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি হয়নি। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এখনো ভাড়া ভবনে চলছে। এছাড়া করতোয়া নদীর দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগ সহজ করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেতু নির্মাণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, দখল ও দূষণের কারণে করতোয়া নদী অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। পাশাপাশি উপজেলার বেশ কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।
নাগরিক সেবার পরিধি বাড়াতে শাজাহানপুরে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার দাবিও দীর্ঘদিনের। বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাফর আলমগীর সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, “দ্রুত নগরায়ণের ফলে পরিকল্পিত নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে শাজাহানপুরে পৌরসভা গঠন সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কমানো এবং পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করতে মাঝিড়া বন্দর ও বনানী মহাসড়ক এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রয়োজন। প্রতিদিন এসব এলাকায় যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম সংবাদ বুলেটিনকে বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতে অন্যান্য উপজেলার তুলনায় শাজাহানপুর এখনো পিছিয়ে রয়েছে। যুবসমাজকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও নিয়মিত ক্রীড়া চর্চার সুযোগ সৃষ্টি প্রয়োজন। এছাড়া সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা ও চিকিৎসক সংকটের কারণে দরিদ্র জনগোষ্ঠী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
অন্যদিকে বগুড়া জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক শাহীন সংবাদ বুলেটিনকে জানান, অতীতে রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে শাজাহানপুর কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন পায়নি। তবে বর্তমানে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং এমপি মহোদয়ের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শাজাহানপুরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং উপজেলা পর্যায়ে একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।
বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন সম্প্রতি এক গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জানান, শাজাহানপুরের জামালপুর এলাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এছাড়া খাল খনন, সড়ক উন্নয়ন, আরসিসি সেতু নির্মাণ এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সচেতন মহলের অভিমত, রাজনৈতিক বিভাজন, সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের ঘাটতির কারণে শাজাহানপুরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। তবে সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় উপজেলাটির দীর্ঘদিনের দাবিগুলো অগ্রাধিকার পাবে এবং শাজাহানপুর উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হবে—এমন প্রত্যাশা স্থানীয়দের।