১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শেরপুরে অধ্যক্ষ নিয়োগে অর্ধকোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ

spot_img

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শেরপুরে টাউনক্লাব পাবলিক লাইব্রেরি মহিলা অনার্স কলেজে অধ্যক্ষ নিয়োগে অর্ধ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১২ মে) বিষয়টির অভিযোগকারী কলেজের গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য পিয়ার হোসেন পিয়ার ও দাতা সদস্য জাহিদুর রহমান টুলু অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ১০ মার্চ গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অধ্যক্ষ পদের জন্য ১৩ জন আবেদন করলেও ৩ মে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ জন। লিখিত পরীক্ষায় সিরাজগঞ্জের সায়দাবাদের যমুনা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন, কাজীপুরের আফজাল হোসেন মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. আব্দুল মান্নান, বগুড়ার ধুনট মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম ও বগুড়া আর্মড ব্যাটালিয়ন কলেজের উপাধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণ এই চারজনের মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করেছে নিয়োগ নির্বাচনী কমিটি। তাদের মধ্যে মো. জাকির হোসেনকে প্রথম ঘোষণা করে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।

তবে নিয়োগ পরীক্ষার দিনই শুরু হয় নানান অনিয়মের গুঞ্জন। নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহের জন্য সংবাদকর্মীরা কলেজে গেলে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁদের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। এরপর জানানো হয় পরীক্ষা শেষে তাঁদের সব তথ্য সরবরাহ করা হবে।

লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান যৌথভাবে এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন। এই কমিটির মাধ্যমে প্রায় ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রার্থী মো. জাকির হোসেনের নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে নিয়োগে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে তার কর্মস্থল যমুনা কলেজেও। তিনি তার বর্তমান কলেজের তহবিল থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই কলেজের অধ্যক্ষ হওয়ার চেষ্টা করেছেন। যা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এ বিষয়ে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য পিয়ার হোসেন পিয়ার ও জাহিদুর রহমান টুলু বলেন, ‘কলেজটি এলাকায় নারী শিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। এখানে অধ্যক্ষ নিয়োগে অনিয়ম হলে কলেজটির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আমরা বর্তমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানাই।’

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘লিখিত অভিযোগের বিষয়ে আমার জানা নেই। পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নিয়োগ বোর্ড স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনো দায় নেই।’

কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ বলেন, ‘পরীক্ষার সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ সঠিক নয়।’

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষানবিশ) ও নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি ফয়সাল মাহমুদের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ