৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

যে গুনাহ! মানুষের রিজিকের বরকত কমিয়ে দেয়

spot_img

মানুষ জীবনের নানা সময়ে অভিযোগ করে—“অনেক চেষ্টা করছি, কিন্তু সফল হচ্ছি না”, “আয় হচ্ছে, কিন্তু টিকে না”, কিংবা “কোনো কিছুতেই যেন বরকত নেই”। ইসলাম আমাদের শেখায়, মানুষের কিছু গুনাহ তার জীবনের বরকত ও কল্যাণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,
“নিশ্চয়ই মানুষ তার গুনাহের কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়।”
— (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪০২২)
রিজিক বলতে শুধু অর্থ-সম্পদ বোঝায় না; বরং সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি, পারিবারিক সুখ, সময়ের বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিও রিজিকের অন্তর্ভুক্ত।
যেসব গুনাহ রিজিকের বরকত কমিয়ে দিতে পারে
গোপন গুনাহ
মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকলেও আল্লাহ তাআলার দৃষ্টি থেকে কিছুই গোপন নয়। গোপনে করা পাপ, হারাম সম্পর্ক, অশ্লীলতায় জড়ানো কিংবা আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হওয়া মানুষের অন্তরকে কঠিন করে দেয় এবং জীবনের বরকত হ্রাস করে।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তিনি চোখের খেয়ানত এবং অন্তরে যা গোপন রাখা হয়, তা জানেন।”
— (সুরা গাফির : ১৯)
হারাম উপার্জন
ঘুষ, সুদ, প্রতারণা, জালিয়াতি বা অন্যায় উপায়ে অর্জিত সম্পদ বাহ্যিকভাবে লাভজনক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা বরকতহীন হয়ে পড়ে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যে দেহ হারাম দ্বারা পুষ্ট হয়েছে, তার জন্য জাহান্নাম অধিক উপযুক্ত।”
— (সুনানে তিরমিজি)
হারাম উপার্জন সম্পদের পরিমাণ বাড়াতে পারে, কিন্তু জীবনের প্রশান্তি ও কল্যাণ নষ্ট করে দেয়।
নামাজে অবহেলা
নামাজ হলো বান্দা ও তার প্রতিপালকের মধ্যকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। যারা নামাজে অবহেলা করে, তারা নিজেদেরই বড় ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমার পরিবারকে নামাজের নির্দেশ দাও এবং নিজেও এর ওপর অবিচল থাকো। আমরা তোমার কাছে রিজিক চাই না; বরং আমরাই তোমাকে রিজিক দিই।”
— (সুরা ত্বা-হা : ১৩২)
নামাজ মানুষকে আল্লাহর রহমত ও বরকতের পথে পরিচালিত করে।
অন্যের হক নষ্ট করা
কারো প্রাপ্য অর্থ আত্মসাৎ করা, প্রতারণা করা কিংবা অন্যের অধিকার নষ্ট করা ইসলামে গুরুতর অপরাধ। এসব গুনাহ মানুষের জীবনে অশান্তি ও বরকতহীনতার কারণ হতে পারে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যার ওপর তার ভাইয়ের কোনো হক রয়েছে, সে যেন আজই তা আদায় করে নেয়।”
— (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৪৯)
আশার দরজা সবসময় খোলা
মানুষ ভুল করবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের ভালোবাসেন। আন্তরিকভাবে তাঁর দিকে ফিরে এলে তিনি ক্ষমা করেন এবং কল্যাণের দরজা খুলে দেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের সাহায্য করবেন।”
— (সুরা নূহ : ১০-১২)
করণীয়
বেশি বেশি ইস্তিগফার করা।
হালাল উপার্জনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া।
নিয়মিত নামাজ আদায় করা।
অন্যের হক যথাযথভাবে আদায় করা।
প্রকাশ্য ও গোপন উভয় ধরনের গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করা।
উপসংহার
রিজিকের প্রকৃত বরকত কেবল অর্থের প্রাচুর্যে নয়; বরং শান্তি, সন্তুষ্টি ও আল্লাহর অনুগ্রহে নিহিত। তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত আত্মসমালোচনা করা, গুনাহ থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে হালাল রিজিক, বরকতময় জীবন এবং খাঁটি তওবার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ