সোমবার (২১ এপ্রিল) বগুড়া সফরের অংশ হিসেবে শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে সংস্কার কমিশনে নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে বিএনপি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতের অমিল থাকবে স্বাভাবিক, সেই কমিশন থেকে বেরিয়ে এসে কোন কোন বিষয়ে একমত-দ্বিমত তা আমরা জানিয়েছি। পরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ স্বাক্ষর করা হয়েছে। হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে বিএনপি। কিন্তু কিছু রাজনৈতিক দল সংসদে ও সংসদের বাইরে জনগণকে বিভ্রান্ত করে বক্তব্য দিচ্ছে।
বিগত সরকারের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার হরণ করেছিল ফ্যাসিস্ট সরকার। গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী সরকার পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল। দেশের মানুষ সেই হরণকরা ভোটাধিকার ফিরিয়ে এনেছে। বিগত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনগণ পাঁচবছর দেশের দায়িত্ব দিয়েছে বিএনপিকে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বিএনপি কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি ছিল বিএনপির, সেই প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে নারীদের সাবলম্বী করতে ফ্যামিলিকার্ড দিয়েছে, কৃষককার্ড দিয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ধীরে ধীরে। ১০হাজার টাকা ঋণ মওকুফ করা হয়েছে ১২ লাখ কৃষকের। ধর্মীয় গুরুদের সম্মানি দেয়া হয়েছে। জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি আবারও বাস্তবায়ন হচ্ছে। বিএনপি যে কথা দিয়েছিল, পর্যায়ক্রমে সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার। এগুলো সবই খেটেখাওয়া মানুষের জন্য। এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হলে দেশের খেটেখাওয়া মানুষের উপকার হবে।
এ সময় স্বল্পখরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের বিষয়ে শিগগিরই সরকার সুখবর দেবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বেগম জিয়া ২০৩০ ভিশন দিয়েছিলেন, কীভাবে দেশকে সাজাতে চান। সেই ধারাবাহিকতায় ৩১দফা দিয়েছিল বিএনপি রাষ্ট্রমেরামতের রূপরেখা দিয়ে।
ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, যারা সংস্কারের কথা বলে, তারা নারীর অধিকার ও স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলেন না। তারা নানা সমস্যার কথা বলছে না, শুধু সংবিধান সংবিধান নিয়ে কথা বলছে।
পরে তিনি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বিমানবন্দর স্থাপনের আশ্বাস দিয়ে সবার কাছে দোয়া চান।