২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

বগুড়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলায় শিল্পপতি শিরু কারাগারে

spot_img

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বগুড়ার শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শিরু (৬০) কে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতে জামিন নিতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক তাসকিন আহমেদ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল।

গ্রেপ্তার শিরু বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক হিসেবে পরিচিত।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী আফরুজা আক্তার লিপির সঙ্গে ২০১০ সালে শিরুর বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়, যার বর্তমান বয়স ১৪ বছর। তবে সন্তানের জন্মের পর থেকেই শিরু তাকে অস্বীকার করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালে শেরপুর থানা সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ওই নারী, যা বর্তমানে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। একই বছরের ২৭ আগস্ট শিরু তাকে তালাক দেন।

পরবর্তীতে দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে আরও একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়, এসব মামলা প্রত্যাহারের শর্তে শিরু পুনরায় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে সন্তানের পিতৃত্ব সংক্রান্ত মামলা রেখে অন্য মামলা প্রত্যাহার করলেও শিরু তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।

বরং ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময় বিয়ের প্রলোভনে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর তাকে কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ের জন্য বলা হলে শিরু তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এরপর ১০ নভেম্বর শেরপুর থানায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী আফরুজা আক্তার লিপি বলেন, শিরু আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তিনি আমার সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করছেন না। বিয়ের পর তালাক দেন, এরপর মামলা তুলে নিতে বিয়ের প্রলোভন দেখান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করে আমার সঙ্গে জঘন্য অপরাধ করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল আমিন রাসেল জানান, আগে এ মামলায় আসামি উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। তবে বৃহস্পতিবার নিম্ন আদালতে হাজির হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ