
দক্ষিণ এশীয় উপ-আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (সাসেক-২) প্রকল্পের আওতায় বগুড়া-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান থাকলেও এরই মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মহাসড়কের বিস্তীর্ণ অংশ অবৈধ দখলের কবলে পড়েছে। বনানী, মাঝিড়া, সেনাস্মরণী, বি-ব্লক, আড়িয়াবাজার ও নয়মাইল এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কোথাও ভবনের সিঁড়ি মহাসড়কের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে, কোথাও ভবনের অংশ সম্প্রসারণ করে সড়কের জায়গা দখল করা হয়েছে। এছাড়া বারান্দার ছাউনি, ইট, বালু, খোয়া ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী মহাসড়কের ওপর রাখার ফলে যানবাহন চলাচল ও পথচারীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। বনানী, নয়মাইল, আড়িয়াবাজার ও কাটাবাড়িয়া এলাকায় মহাসড়কের ওপর নিয়মিত হাট-বাজার ও দোকান বসায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পরও কয়েক দিনের ব্যবধানে পুনরায় মহাসড়ক দখল হয়ে যায়। তাদের মতে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পাশাপাশি নিয়মিত মামলা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মহাসড়ককে দখলমুক্ত রাখা জরুরি।
আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক জানান, আড়িয়াবাজার বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে আড়িয়া রহিমাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও আড়িয়া রহিমাবাদ বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং পশ্চিম পাশে আড়িয়া রহিমাবাদ সরকারি বালক প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এছাড়া আশপাশে আরও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের ওপর নিয়মিত বাজার বসায় যানবাহন দাঁড়ানোর পর্যাপ্ত স্থান থাকে না।
তিনি বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারী ও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। গত ১১ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিয়া আক্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়। মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এদিকে, বি-ব্লক বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের জায়গা দখল করে নির্মিত স্থাপনায় ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ভবনের মালিক হিসেবে নিষিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িত শাজাহানপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক আরজুর নাম স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হলেও আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ওই ভবনের একটি অংশ ভাড়া নিয়ে ব্যবসা পরিচালনাকারী মাহফুজ উল্লাহ শামীম বলেন, ‘দোকানের কিছু অংশ মহাসড়কের জায়গার ওপর রয়েছে। এতে জনসাধারণের চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, বিষয়টি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’
একই এলাকায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত সিঁড়ি প্রসঙ্গে শিক্ষক মহিউল ইসলাম বলেন, মূল সিঁড়ি ভবনের ভেতরে রয়েছে। ভাড়াটিয়াদের সুবিধার্থে অস্থায়ীভাবে একটি সিঁড়ি করা হয়েছে। তবে আশপাশের অনেক স্থাপনাও মহাসড়কের জায়গা দখল করে নির্মিত হয়েছে।
মাঝিড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও উপজেলা কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, বনানী থেকে নয়মাইল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কের জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে সড়কের ওপর দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। প্রায়ই দুর্ঘটনায় হতাহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা সভায় উত্থাপন করা হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বগুড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল হক বলেন, চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনও সাসেক-২ প্রকল্পের অধীনে রয়েছে। মহাসড়ক আনুষ্ঠানিকভাবে সওজের কাছে হস্তান্তর না হওয়ায় অবৈধ দখলমুক্তকরণে তাদের সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত।
অন্যদিকে সাসেক-২ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার আহসান হাবীব জানান, নয়মাইল এলাকায় জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু স্থাপনা উচ্ছেদ করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি সেই জটিলতার সমাধান হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট এলাকাসহ মহাসড়কের অন্যান্য অংশে অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




