
মোঃ মুঞ্জুরুল ইসলাম রিপন:
‘সরকার গ্যাস, বিদ্যুৎ ঠিকমতো দিতে পারলে লংমার্চের জন্য রাস্তায় নামার প্রয়োজন হতো না’—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে বগুড়ার মাটিডালী এলাকায় ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আপনারা যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করতেন, তাহলে আমাদের লংমার্চের জন্য রাস্তায় নামার প্রয়োজন পড়ত না। আপনারা বলেছেন এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবেন। আপনারা এক কোটি মানুষকে চাঁদাবাজ বানিয়েছেন। দুর্নীতির রেট বাড়িয়েছেন।’
চাকরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছে। ১৪শ প্রাণ গেছে। আমরা আরেকবার প্রাণ দিতে প্রস্তুত। তবু এই বৈষম্য আমরা বরদাশত করব না।’
কৃষকদের সার সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমার কৃষক বন্ধু সার পায় না। ১ হাজার ৪০০ টাকার সার কিনতে হয় ২ হাজার ২০০ টাকায়। বিদ্যুৎ দিতে পারেন না, আবার ডাবল-ট্রিপল বিল তুলে দেন আমাদের হাতে।’
পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের এই লড়াই, আমাদের মুক্তির লড়াই। আমরা শুধু সরকার পরিবর্তন চাইনি। আমরা বাংলাদেশের পরিবর্তন চেয়েছি। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য আবার রাস্তায় নামতে হবে। এই দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আবার আমাদের রাস্তায় নামতে হবে।’
এর আগে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুরের উদ্দেশে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে বিকেল ৩টার দিকে লংমার্চের বহর বগুড়ার মাটিডালী এলাকায় পৌঁছায়।
পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা।‘আমাদের একটি দাবিও দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য’
এদিকে সন্ধ্যায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর চৌমাথা মোড়ে আয়োজিত পথসভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের লংমার্চ কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর খায়েশ পূরণের জন্য নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের জন্য।’
তিনি বলেন, ‘যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হতো, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা হতো, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ হতো এবং কৃষকরা সার পেত, তাহলে লংমার্চ করতাম না।’
শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণ আর জুলুম সহ্য করতে পারছে না। তাঁদের একটি দাবিও দলের জন্য নয়, জনগণের জন্য। সরকার দাবি মেনে না নিলে তাঁদের ৮ দফা এক দফায় রূপ নেবে।
কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশ সুন্দরভাবে চললে সবাই শান্তিতে থাকতে পারত। চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি হতো না, সবার চাকরি হতো। তিনি সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।




