
তিন যুগেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা, পরিকল্পনা, জমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণ হলেও এখনো বগুড়ার আকাশে উড়েনি কোনো বাণিজ্যিক বিমান। রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে বারবার বদলেছে বগুড়া বিমানবন্দর প্রকল্পের গতি ও গন্তব্য। তবে এবার নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে সরকার। ঘোষণা এসেছে—বগুড়ায় গড়ে তোলা হবে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর, বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি এবং ফ্লাইং একাডেমি।
বগুড়া বিমানবন্দর নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয় ১৯৮৭ সালে জাতীয় পার্টির শাসনামলে। সে সময় বিমানবন্দর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতায় তা আর এগোয়নি।
পরে ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে একনেক সভায় বগুড়ায় বিমানবন্দর স্থাপনের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। শুরু হয় প্রকল্প বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। ১৯৯৫ সালে বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের পাশে এরুলিয়া এলাকায় ১০৯ দশমিক ৮১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হয়। রানওয়ে, কার্যালয় ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়। ২০০০ সালে প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলেও চালু হয়নি বাণিজ্যিক ফ্লাইট। কারণ তখনও বিমানবন্দরটি বাণিজ্যিক উড্ডয়নের জন্য পুরোপুরি উপযোগী ছিল না।
২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে এয়ারফিল্ডটির নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে সেখানে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিচালিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন স্থবির থাকার পর ২০২১ সালে আবার আলোচনায় আসে বগুড়া বিমানবন্দর। ওই বছরের ১ মার্চ বগুড়ায় বাণিজ্যিক বিমান চলাচল চালুর আবেদন পাঠানো হয় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) কাছে। আবেদনটি করেছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য মো. রেজাউল করিম বাবলু। এরপর বেবিচকের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ২০২১ সালের ১৫ নভেম্বর বগুড়া বিমানবন্দরের নির্ধারিত এলাকা পরিদর্শন করে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন তৎকালীন উপসচিব ইশরাত জাহান পান্না। পরে কমিটি বাণিজ্যিক বিমানবন্দর চালুর পক্ষে মত দেয় বলে জানান সাবেক এমপি বাবলু।
তিনি দাবি করেন, সে সময় বিমানবন্দর চালু করতে সম্ভাব্য ব্যয় ও পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে উদ্যোগটি আর বাস্তবায়ন হয়নি।
সর্বশেষ গত ৭ মে নতুন করে বগুড়া বিমানবন্দর নিয়ে বড় ঘোষণা দেয় বিএনপি সরকার। ওইদিন বগুড়া এয়ারফিল্ড পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।
পরিদর্শন শেষে তারা জানান, বগুড়া এয়ারফিল্ডকে আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দরে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সেখানে বিমানবাহিনীর পূর্ণাঙ্গ ঘাঁটি এবং পাইলট তৈরির জন্য আধুনিক ফ্লাইং একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এবার বগুড়াবাসীর প্রশ্ন—অবশেষে কি সত্যিই উড়বে বগুড়ার আকাশে বাণিজ্যিক বিমান, নাকি আগের মতোই ঘোষণা আর পরিকল্পনার মধ্যেই আটকে থাকবে বহু প্রতীক্ষিত এই প্রকল্প?




