৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নিম্নমানের খোয়া দিয়ে সড়কের কাজের অভিযোগ!

spot_img

গাবতলী (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নের মরিয়া থেকে পেরিহাট পর্যন্ত ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের ধূসর খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের আপত্তি উপেক্ষা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মরিয়া-পেরিহাট ৮০০ মিটার সড়কের পিচ ঢালাইয়ের কাজ পায় মেসার্স বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। এ কাজের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ২১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৬ টাকা। প্রকল্পের আওতায় উন্নতমানের ইটের খোয়া দিয়ে ছয় ইঞ্চি পুরু ভিত্তি তৈরি করে পিচ ঢালাই করার কথা রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের কাজে ধূসর ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নিম্নমানের খোয়া দিয়ে কাজ শুরু হলে তাঁরা ঠিকাদারের লোকজনকে বাধা দেন। তবে তাঁদের আপত্তি উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর নতুন অর্থবছরে আবার কাজ শুরু হয়েছে। শুরুতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সড়কের কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে কাজ শেষ করা হলে বর্ষা মৌসুমে পিচের নিচের স্তর দ্রুত নষ্ট হয়ে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি প্যারিস ইসলাম বলেন, বর্তমানে ভালো মানের খোয়া পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সিরাজগঞ্জ থেকে আনা ভালো ও খারাপ মানের খোয়া মিশিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

গাবতলী উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী রুম্মন ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার খোয়া রাস্তায় ফেলার সময় আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি ঘটনাস্থলে যাইনি। তাঁকে ভালো মানের খোয়া ব্যবহারের কথা বলেছি।’

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. সাজেদুর ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি আমরা পরিদর্শন করছি। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলব। নিম্নমানের খোয়াগুলো অপসারণ করা হবে। এ ধরনের খোয়া ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। এ বিষয়ে ঠিকাদারকে চিঠিও দেওয়া হবে। এরপরও অনিয়ম হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের খোয়া অপসারণের পাশাপাশি পুরো সড়ক নির্মাণকাজের মান যাচাই করে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ