
দুদকের মামলায় প্রমানিত দুর্নীতিবাজ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. আনারুল হক প্রাংকে রাজশাহী কলেজের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বৈষমবিরোধী আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
গত সোমবার তাকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এরই প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার(১০সেপ্টেম্বর) ও বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বৈষমবিরোধী শিক্ষার্থীরা।
নব অধ্যক্ষ যেন কলেজে প্রবেশ করতে না পারেন, সে লক্ষ্যে অবস্থান নেন এবং তাকে বয়কট করেন রাজশাহী কলেজের শতাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি পালিত হয়। এ সময় “আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দিবো না ‘ রাজশাহী কলেজে , স্বৈরাচারের ঠাঁই নাই,
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশসেরা রাজশাহী কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন দেওয়া হয়েছে শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. আনারুল হক প্রাংকে। তিনি স্বৈরাচারী সরকার আওয়ামী লীগের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য দলের সুপারিশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদ বাগিয়ে নেন। শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক থেকে শুরু করে রাজশাহীর শহীদ বুদ্ধিজীবী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের পদ দখল করেন তিনি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক দুর্নীতিবাজ মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের মদদেই এসব পদ দখল করতেন তিনি।
প্রফেসর ড. মোঃ আনারুল হক রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বোর্ডের ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ২০২০ সালে তিনটি মামলা করে দুদক। দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনেও এসব তথ্য উঠে আসে। আত্মসাতের কিছু পরিমাণ টাকা বোর্ডের ফান্ডে জমা দিয়ে রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা মামলা থেকে অব্যাহতি পান। এতকিছুর পরও শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান হওয়ার তদবিরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এই বিতর্কিত শিক্ষক। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও বেরিয়ে এসেছে।
রাজশাহী বোর্ড চেয়ারম্যানের স্বপ্ন পূরণ না হলেও তৎকালীন মেয়র লিটনের সুপারিশে পেয়েছেন বুদ্ধিজীবী কলেজের অধ্যক্ষের চেয়ার। সেই বিতর্কিত, দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচার সরকারের দালাল, শিক্ষক নামের পা চাটা গোলামকে দেশসেরা রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ পদায়নের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয় আব্দুর রহিম বলেন, স্বৈরাচারী শাসকের দালাল এবং প্রমাণিত দুর্নীতিবাজ কে আমরা কখনোই আমাদের দেশ সেরা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে মেনে নিতে পারি না। আমাদের কলেজে তো তার চেয়েও অধিক যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক ছিল। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাকে একদিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে যেন সে আমাদের কলেজে না আসতে পারে। আমরা সরকারের দোসরদেরকে চাইনা। বুধবারের মধ্যে পদত্যাগ না করলে আমরা আবার আন্দোলনে যাবো। তিনি যদি পদত্যাগ না করে তাহলে আমরা বুধবার সকালে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করব।
মাসুম আহমেদ নামে রাজশাহী কলেজের আরেক শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা আমাদের প্রাণের ক্যাম্পাস রাজশাহী কলেজে এই বিতর্কিত শিক্ষককে অধ্যক্ষ হিসেবে চাই না। অবিলম্বে তাকে অন্যত্র পাঠিয়ে শিক্ষার্থী বান্ধব, সৎ ও যোগ্য কাউকে অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়নের দাবি জানাই। অন্যথায় দেশসেরা কলেজের শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
মোঃ নিরব হাসান ইব্রাহিম
রাজশাহী কলেজ




