
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে রাতেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা অবস্থায় রাখা হয় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর চৌকি আদালত প্রাঙ্গণে। উঠে এসেছে এমন অভিযোগ। তবে শুধু অভিযোগই নয়, এমন ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে।
গত বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ১০টার পর আদালত প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখেন এক যুবক।
তিনি বলেন, শুধু ওই দিন নয়, মাঝেমধ্যেই রাতে চৌকি আদালতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা অবস্থায় দেখতে পান তিনি। জাতীয় পতাকা নামিয়ে রাখার নিয়ম রয়েছে, এ বিষয়টি আগে তার জানা ছিল না। তবে মাঝেমধ্যেই আদালত প্রাঙ্গণে রাতে পতাকা উড়তে দেখে আসছেন তিনি।
এমন অভিযোগ শুধু ওই যুবকের একারই নয়। শাহজাদপুর চৌকি আদালত সংলগ্ন অন্তত ২০ জন বাসিন্দার।
জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী, সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করার নিয়ম রয়েছে। ফলে সূর্যাস্তের পর পতাকা উত্তোলন করে রাখা বিধিমালার লঙ্ঘন। জাতীয় পতাকার নিয়ম অমান্য বা অবমাননার ক্ষেত্রে আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তির বিধান রয়েছে।
জানতে চাইলে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের নাজির রবিউল হাসান বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও নামানোর দায়িত্ব পালন করেন আদালতের এমএলএস বায়োজিদ। ঘটনার দিন তাকে অফিসিয়াল কাজে বাইরে পাঠানো হয়েছিল। এ কারণে সময়মতো পতাকা নামানো সম্ভব হয়নি। পরে রাতে পতাকা নামানো হয়। ওই দিন আমি নিজেও ছুটিতে ছিলাম।
রবিউল হাসান আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে চৌকি আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আল মামুন তাদের সতর্ক করেছেন। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি আর হবে না বলেও জানান তিনি।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, সেদিন মধ্যরাতের দিকে পতাকা নামানো হয়। স্থানীয়দের নজরে বিষয়টি আসার পরই চৌকি আদালত কর্তৃপক্ষ পতাকা নামিয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আমি ছুটিতে আছি। তাই শাহজাদপুর চৌকি আদালতে রাতের বেলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই।
জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজির সবুজ সরকার বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পতাকা উত্তোলনের বিষয়ে আমি এখনই চৌকি আদালত কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি। আর একটা বিষয়; এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত করছি যে, এ ধরণের ভুল (পতাকা অবহেলা) চৌকি আদালতে আর হবে না।
এ ঘটনায় কী ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে- জানতে চাইলে তিনি জানান, পতাকা উত্তোলন আর নামানোর বিষয়টি ছোট কর্মচারীরা করেন, এখানে তাদেরকে আমরা প্রথম পর্যায়ে সর্তক করব।
এর কিছুক্ষণ পর তিনি মুঠোফোনে কল করে জানান, আমি এখনই চৌকি আদালতের সিনিয়র সিভিল জজ শানু আকন্দকে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি (সিনিয়র সিভিল জজ) আমাকে বলেছেন, এ ধরণের ভুল আর এই চৌকি আদালতে কখনও হবে না। জাতীয় পতাকার বিষয়ে শাহজাদপুর চৌকি আদালত সতর্ক থাকবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোসলেম উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে শাহজাদপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র সিভিল জজ শানু আকন্দ বলেন, রাতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে রাখার বিষয়টি তার জানা ছিল না। তবে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নাজিরের মাধ্যমে জেনেছেন। আদালতে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি (রাতে পতাকা উত্তোলন থাকা) নিয়ে রোববার (১৬ আগস্ট) আদালতে মিটিং করা হবে।




