২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাজাহানপুরে নিলাম নির্ধারিতের অতিরিক্ত বালু বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের নির্দেশ

spot_img

রাধিকা রহমান:

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের শৈলধুকড়ী গ্রামে বাঙালী নদী খননের পর স্তুপ করা নিলামকৃত বালুর নির্ধারিত পরিমাণের অতিরিক্ত বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শনিবার (২২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ নির্দেশ দেন। বর্তমানে স্থানে থাকা তিনটি খননযন্ত্র (এক্সকাভেটর) বন্ধ রয়েছে এবং নতুন করে কোনো ট্রাক প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

তবে নিলামপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী মেসার্স মাসুদ কন্সট্রাকশন-এর মালিক মাসুদুজ্জামান দাবি করেছেন—বালু বিক্রি বন্ধের বিষয়টি সঠিক নয়। চলতি সপ্তাহেই স্থানীয় এলাকা পরিদর্শনের কথা জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী।

২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হকের স্বাক্ষরিত কার্যাদেশ অনুযায়ী, নদী খননের ৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৪১ ঘনফুট বালু ৬ লাখ ২৪ হাজার ৯২৬ টাকায় নিলামে পান মাসুদুজ্জামান। ওই বালু ৩০ জুন ২০২৫ সালের মধ্যে অপসারণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী কার্যাদেশে (২৯ জুন ২০২৫) সময়সীমা বাড়িয়ে ৩০ জুন ২০২৬ করা হলেও—কতটুকু বালু অপসারণ হয়েছে বা বাকি আছে, তা স্পষ্ট উল্লেখ নেই।

প্রথম কার্যাদেশে ৮টি এবং দ্বিতীয় কার্যাদেশে ৯টি শর্ত উল্লেখ করা হয়। উভয় আদেশের ৪ নম্বর শর্তে বলা আছে—বালু পরিবহনের কারণে সড়কের ক্ষতি হলে নিলামগ্রহীতাকে নিজ খরচে তা মেরামত করতে হবে। দ্বিতীয় কার্যাদেশের ৮ নম্বর শর্তে শর্তভঙ্গ করলে নিলাম বাতিলসহ “বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন–২০১0” অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

এলাকার আরেকটি স্পট থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার ঘনফুট বালু নিলামে নিয়ে বিক্রি করছেন উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মাশফিকুর রহমান মামুন।

স্থানীয়দের অভিযোগ—নিলামপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী মাসুদুজ্জামান এখন পর্যন্ত এক কোটি ঘনফুটেরও বেশি বালু বিক্রি করেছেন। অতিরিক্ত বালু পরিবহনে কাঁচা-পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। ধুলা, কাদা আর ভাঙা রাস্তার কারণে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শৈলধুকড়ী এলাকায় বালু বিক্রি ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার সত্যতা জানতে অফিস থেকে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। চলতি সপ্তাহে আমি নিজেই সেখানে পরিদর্শনে যাব। পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমরা ৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৪১ ঘনফুটের বেশি বালু নিলামে দিইনি—এর বেশি কেউ বিক্রি করে থাকলে তার দায় আমাদের নয়।


সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ