৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৯ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৬শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সুনামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের অভিযান যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ডিডির কক্ষ থেকে মদের বোতল উদ্ধার

spot_img

তুর্য দাস,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ের ভিআইপি কক্ষের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে সেখান থেকে বিদেশি ব্রান্ডের মদের বোতল ও তাসের কার্ড উদ্ধার করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযানের খবর পেয়ে সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ এবং বিজিবি টিম এসে চিজ লিষ্ট করেন এবং অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের বিষয় লিপিবদ্ধ করেন।

এর আগে বুধবার বেলা ১১ টা থেকে সুনামগঞ্জ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। অভিযানের খবর পেয়ে উপ-পরিচালক পালিয়ে যায় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। যুব উন্নয়ন অফিসে অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সাথে তাদের বিকাল তিনটা পর্যন্ত কথা হয়।
জানা যায়, শিক্ষার্থীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন ভিআইপি কক্ষে ডিডি থাকেন, সেখানে মদসহ অবৈধ জিনিস রয়েছে। পরে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা ডিডি’র কক্ষে তালা কেটে ঢুকে চেক করে বিদেশি ব্রান্ডের মদের বোতল ও তাস পান।

এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী আব্দুল বারী বলেন, আমরা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা সব প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করি। এরই ধারাবাহিকতায় যুব উন্নয়ন অফিসে গত ১৮ আগস্ট রবিবারে এসে প্রশিক্ষণার্থীদের সাথে কথা বলি। তাদের সাথে কথা বলে অনিয়ম এবং ঘুষ বাণিজ্যের প্রমাণ পাই। এরপর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহনুর আলম’র সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমাদেরকে ১৯ আগস্ট সোমবার দেখা করতে বলেন। ওইদিন যোগাযোগ করলে তিনি ২০ আগস্ট মঙ্গলবারে দেখা করতে বলেন। এরপর মঙ্গলবার যোগাযোগ করলে বলেন ২১ আগস্ট বুধবারে দেখা করতে। আমরা আজকে কথামতো এসেছি, কিন্তু তিনি পালিয়ে গেছেন। আমরা জেনেছি যে, ডিডি যে ভিআইপি কক্ষে থাকেন, সেখানে মাদক সহ অবৈধ মালামাল রয়েছে। এছাড়াও প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে নানাভাবে ঘুষ নিচ্ছেন। আমরা শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ডিডি’র কক্ষের তালা কেটে ঢুকে বিদেশি ব্রান্ডের মদসহ খেলার তাস পেয়েছি। এরপর আইনশৃংখলা বাহিনীকে খবর দিয়েছি। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনা কর্মকর্তা এবং বিজিবি টিম এসেছে। আমরা তাদের কাছে যুব উন্নয়ন অফিসের অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িতদের নাম দিয়েছি। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা অভিযোগ দিয়েছেন তাদের নামগুলোও দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের জন্য কোনো টাকা লাগে না। অথচ তারা ভর্তি হলেই ১৬৫০ টাকা নিচ্ছেন। লাইসেন্সের নামে ৪৫০০-৬৫০০ টাকা করে ঘুষ বাণিজ্য করছেন। যেসব অবৈধ জিনিস রয়েছে, সেগুলোও তারা চিজ লিস্ট করে নিয়েছেন। আমরা চাই এই যুব উন্নয়ন অফিসের ডিডি সহ যারা ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হোক। এছাড়াও যে টাকা এই পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন, যাদের কাছ থেকে নিয়েছেন, সব টাকা ফেরত দেওয়া হোক।

সুনামগঞ্জ সদর থানার এসআই উজ্জ্বল বললেন, যুব উন্নয়নে ফ্রি প্রশিক্ষণ দেবার কথা থাকলেও তারা টাকা নিচ্ছেন খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা সেখানে যান। যুব উন্নয়নের ডিডি সাহেবকে না পেয়ে শিক্ষার্থীরা তার ফোনে যোগাযোগ করেন। তিনি মঙ্গলবার রাতেও তাদেরকে আজ বুধবার আসতে বলেন, কিন্তু বুধবার বেলা ১১ টা থেকে তিনি অফিসে নেই, ফোনও বন্ধ রাখায় শিক্ষার্থী এক পর্যায়ে তার কক্ষের তালা ভাঙেন এবং ওখানে খালি মদের বোতল পান। পরে সেনা সদস্য, বিজিবি ও আমরা পুলিশ সেখানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝানোর চেষ্টা করি যে আইনীভাবে বিষয়টি দেখা হবে। পরে শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে চলে যান।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ