
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে অবস্থিত বাসভবন ‘ফিরোজা’—যেখানে একসময় ছিল ব্যস্ততা, কোলাহল আর রাজনৈতিক আলাপের গুঞ্জন—আজ সেখানে নেমে এসেছে গভীর নিস্তব্ধতা। সবকিছুই যেন আগের মতোই আছে, অথচ নেই সেই পরিচিত উপস্থিতি, নেই বাড়ির প্রাণভোমরা মানুষটি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) গুলশানের এই বাসভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, এক বেদনাবিধুর পরিবেশ। বাড়ির আসবাবপত্র, সুপরিচর্যিত বাগান, নিরাপত্তায় নিয়োজিত প্রহরীদের ছাউনি—সবই স্বাভাবিক ছন্দে থাকলেও চারপাশজুড়ে ভাসছে শূন্যতার হাহাকার। মনে হচ্ছে, যেন সময় থমকে দাঁড়িয়েছে ‘ফিরোজা’র আঙিনায়।
বাসভবনের ফটকের সামনে দাঁড়ালে সহজেই টের পাওয়া যায় শোকের নীরবতা। কথা কম, চোখে জল, কণ্ঠে ভার—এখানে আসা মানুষদের আবেগ যেন ভাষা খুঁজে পায় না। কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকছেন, কেউবা চোখ মুছছেন বারবার। রাজনৈতিক কর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা সাধারণ মানুষ—সবার মাঝেই একই অনুভূতি, প্রিয় একজনকে হারানোর গভীর বেদনা।
একসময় যে ‘ফিরোজা’ ছিল সিদ্ধান্ত, সংগ্রাম ও নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু, আজ তা হয়ে উঠেছে স্মৃতির ভারে নুয়ে পড়া এক শোকস্তব্ধ ঠিকানা। দেয়াল, বারান্দা আর বাগানের গাছগুলোও যেন নীরবে সাক্ষ্য দিচ্ছে এক ইতিহাসের, এক জীবনের, এক অধ্যায়ের অবসানের।
গুলশানের ব্যস্ত সড়কের পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ‘ফিরোজা’ আজ আর শুধু একটি বাসভবন নয়—এটি হয়ে উঠেছে শোক, স্মৃতি ও ভালোবাসার এক নীরব প্রতীক।




