
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র ১৪ দিন বাকি। ঈদকে সামনে রেখে বগুড়া জেলার খামার ও কৃষকের উঠানে প্রস্তুত করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশু। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পশুর চাহিদা কমে যাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগে রয়েছেন খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বগুড়ার ৫ হাজার ২০০টি খামারে মোট ৭ লাখ ৪০ হাজার ৫৩৭টি কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৪২টি। সে হিসাবে এবার প্রস্তুত পশুর সংখ্যা কমেছে ৬ হাজার ৩০৫টি।
খামারিরা জানান, কয়েক মাস ধরে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে প্রাকৃতিক খাবার ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর বা ভেজাল খাদ্য ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে খামার থেকেই নির্দিষ্ট গন্তব্যে পশু পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এতে কেনাবেচা সহজ হওয়ার পাশাপাশি বিক্রিও বাড়ছে বলে দাবি তাদের।
তবে গো-খাদ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারিরা। তারা জানান, ভুসি, ধানের কুড়া, খৈল, খড় ও ঘাসসহ বিভিন্ন গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতি গরু প্রস্তুত করতে খরচ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন পশুর হাটে ইতোমধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে কেনাবেচা। ক্রেতাদের ভাষ্য, গত বছরের তুলনায় পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ছোট-বড় সব ধরনের গরুর চাহিদা রয়েছে।
কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাঠে কাজ করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। খামারগুলোতে নিয়মিত তদারকির পাশাপাশি পশুর হাটগুলোতে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। যাতে কোনো রোগাক্রান্ত গবাদিপশু কেনাবেচা না হয়।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস আরও জানায়, গত বছর জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ৭ লাখ ৫ হাজার ২৬০টি। তবে এবার সেই চাহিদা কমে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৪৭ হাজার ৫৮০টিতে। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় চাহিদা কমেছে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০টি পশুর।




