
জানা গেছে, শিবচরণের বাড়ি ভারতের হরিয়ানায়। গত ৪ আগস্ট সোনিপতের একটি বৃদ্ধাশ্রমে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। প্রায় দুই বছর ধরে ওই বৃদ্ধাশ্রমেই বসবাস করছিলেন তিনি।
মৃত্যুর পর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাঁর তিন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। নেপাল, উত্তর প্রদেশ ও মুম্বাইয়ে থাকা মেয়েরা সোনিপতে যেতে না পারায় ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার দাহক্রিয়ায় অংশ নেন।
এরপর বাবার অস্থি বিসর্জনের সময়ও তিন মেয়ের কেউ হরিদ্বারে যেতে পারেননি। শিবচরণের মৃত্যুর খবর তাঁর বড় ভাই মহেন্দ্র গুপ্তের কাছে পৌঁছায় বেশ অপ্রত্যাশিতভাবে। একটি সংবাদ প্রতিবেদন থেকে তিনি জানতে পারেন, তাঁর ভাই এতদিন জীবিত ছিলেন এবং সম্প্রতি মারা গেছেন।
মহেন্দ্র জানান, তারা সাত ভাইবোন। তিনি সবার বড়। তবে শিবচরণ ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর ধরে কোনো যোগাযোগ ছিল না। একপর্যায়ে নেপালে ভূমিকম্পের পর মহেন্দ্র ধারণা করেছিলেন, ওই দুর্যোগে হয়তো তাঁর ভাই মারা গেছেন। এরপর থেকে এত বছর তিনি শিবচরণকে মৃত বলেই মনে করে আসছিলেন।
শিবচরণের মৃত্যুর খবর জানার পর হরিদ্বারে যান মহেন্দ্র। গত বুধবার সেখানে তিনি ভাইয়ের অস্থি বিসর্জন করেন। এ সময় সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং বৃদ্ধাশ্রম ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। মহেন্দ্র বলেন, তাঁর ভাতিজিদের হয়তো নিজেদের কিছু বাধ্যবাধকতা ছিল। বিষয়টি তিনি বুঝতে পারছেন বলেও জানান।
শিবচরণের মৃত্যুর পর বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ তাঁর তিন মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। সোনিপতে যেতে না পারায় তারা ভিডিও কলের মাধ্যমে বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেন। স্থানীয় মানুষ ও বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
অস্থি বিসর্জনের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়। তিন মেয়ের কেউ হরিদ্বারে যেতে পারেননি। পরে বৃদ্ধাশ্রম কর্তৃপক্ষ শিবচরণের বড় মেয়ের সঙ্গে কথা বলে। বাবার অস্থি যথাযথভাবে বিসর্জনের জন্য তিনি তাঁর ছোট ভাইদের দায়িত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন।
ওই মেয়ে জানান, স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তিনি নিজেই হরিদ্বারে যেতেন। বাবার শেষকৃত্যে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি নিজেকে ‘খুব লজ্জিত’ বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বাবাকে তিনি খুব ভালোবাসতেন। তবে কিছু বাধ্যবাধকতার কারণে শেষবিদায়ে উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁর দাবি, তাঁর বাবা নিজেই মেয়েদের সঙ্গে থাকতে চাইতেন না।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে




