৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৮ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৯শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

সকালে ঠিক কখন খেলে ডায়াবেটিস রোগীর সুগার কন্ট্রোলে থাকে?

spot_img

ডায়াবেটিস রোগীদের জীবনযাপনে শৃঙ্খলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। অনেকেই ভাবেন, সকালে না খেলে হয়তো ওজন কমবে বা শরীর ভালো থাকবে। কিন্তু ডায়াবেটিস থাকলে সকালের নাস্তা বাদ দেওয়া মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

অনেক রোগী সকালে খাবার খান না বা দেরিতে খান। কেউ কেউ সকাল ১০-১১টার আগে ব্রেকফাস্টই করেন না। এই অভ্যাস সুগার লেভেল বাড়িয়ে দিতে পারে। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বিঘ্নিত হয়। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে হার্ট, চোখ ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ে।

কেন ব্রেকফাস্ট গুরুত্বপূর্ণ

ডায়াবেটিস রোগীদের বেশিক্ষণ খালি পেটে থাকা উচিত নয়। সকালে যারা ইনসুলিন নেন বা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তারা যদি সময়মতো খাবার না খান, তাহলে সুগার হঠাৎ করে কমে যেতে পারে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)। এটি বিপজ্জনক হতে পারে। তাই ব্রেকফাস্ট করা তাদের জন্য বাধ্যতামূলক।

কখন ব্রেকফাস্ট করবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সকাল ৮টার মধ্যে ব্রেকফাস্ট করা ভালো। খুব বেশি হলে সকাল ৯টার মধ্যে খেয়ে নেওয়া উচিত। এর পরে দেরি করলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।

রাতের খাবারের দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর হালকা কিছু খাওয়া যেতে পারে। এ সময় ফল খেলে উপকার পাওয়া যায়। এতে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

সকালে যা খাবেন

ডায়াবেটিস থাকলে সকালের খাবারের তালিকায় সচেতনতা জরুরি। অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। রুটি বা ভাত খেলেও পরিমাণ কম রাখতে হবে। পরোটা, সাদা পাউরুটি বা বেশি ময়দাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এগুলো দ্রুত সুগার বাড়াতে পারে। এর পরিবর্তে ওটস বা আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া ভালো। এগুলো ধীরে হজম হয় এবং রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ায় না।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, মাছ বা চিকেনের মতো খাবারে উন্নত মানের প্রোটিন থাকে। এগুলো পেট ভরা রাখে এবং সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

নাস্তার পর যা করবেন

ব্রেকফাস্টের পর ১০ মিনিট হাঁটলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সময় না পেলে ঘরে দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট স্কোয়াট বা হালকা ব্যায়াম করলেও উপকার পাওয়া যায়। খাবারের পর অল্প শারীরিক নড়াচড়া শরীরের গ্লুকোজ ব্যবহারে সাহায্য করে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুধু ওষুধ নয়, সঠিক সময়ে সঠিক খাবার ও হালকা ব্যায়াম-এই তিনটিই সমান জরুরি। নিয়ম মেনে চললেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ