৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নারী শিক্ষার্থীকে অনৈতিক প্রস্তাব কান্ডে বহিষ্কার বেরোবির সমন্বয়ক রহমত ‎

spot_img

বেরোবি প্রতিনিধি: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কিক স্কলারশিপ প্রোগ্রাম প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক ‘কোর্স ইন্সট্রাক্টর’ পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে কোটা আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক রহমত আলীকে। নারী শিক্ষার্থীকে স্কলারশীপের প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মান ভিত্তিক সংস্থাটি।

‎বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক জরুরি মিটিংয়ে সংস্থাটি তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়। শুক্রবার (২২ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী।

‎তিনি বলেন, “তার (রহমত) বিরুদ্ধে নারী গঠিত অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পর সংস্থাটি জরুরি বৈঠক করে তাকে বহিষ্কার করেছে। যেহেতু তার নিয়োগ ও বেতন সব সংস্থার অধীন, তাই তারা নতুন ইন্সট্রাক্টর নিয়োগ দেবে।”

‎এর আগে ১৯ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রহমত আলীর একাধিক স্ক্রিনশট ফাঁস হয়। সেখানে দেখা যায় তিনি এক নারী শিক্ষার্থীকে উদ্দেশ করে লিখছেন— “তোমার প্রতি আমার প্রবল আকর্ষণ, আই নিড ইউ, আমি সত্যিই তোমাকে কামনা করি, আমার সাথে থাকবে তো?”

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীকে তিনি এসব বার্তা পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বেরোবির পরিসংখ্যান বিভাগের এক শিক্ষার্থী এবং রংপুর শহরের আরও কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী  তার বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। ভুক্তভোগীরা এসব বার্তার স্ক্রিনশট সাংবাদিকদের হাতে দিয়েছেন।

‎এর বাইরেও নতুন করে উঠে এসেছে আরেকটি অভিযোগ। রহমতের নিজ জেলা গাইবান্ধার এক ছাত্রী, যিনি ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে পড়ছেন, তিনিও রহমতের সঙ্গে কথোপকথনের স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছেন। সেখানে রহমতকে বলতে শোনা যায়— “কলিজা, কলিজা, প্লিজ ডোন্ট ডু দ্যাট…”।

‎‎শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, রহমত আলী কোর্স ইন্সট্রাক্টর হলেও নিয়মিত ক্লাস নিতেন না। রাজনীতি ও নানা কর্মসূচিতেই তার বেশি সময় যেত।

‎তার কোর্সের শিক্ষার্থী মো. রাসেল বলেন, “তিনি নিয়মিত ক্লাস নিতেন না। যখন মন চাইতো, তখন আসতেন।”

‎এই বিষয়ে বেরোবি প্রক্টর ড. মো ফেরদৌস রহমান বলেন, “এটা একটা লজ্জাজনক বিষয়। এমন অপকর্মের জন্য কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

‎এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা যৌন নির্যাতন সেল

‎আছে। যেটা হাইকোর্ট থেকে অনুমোদিত।সেখানে অভিযোগ আসলেই আমরা তার বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেব।”

‎ঘটনার বিষয়ে জানতে রহমত আলীকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ