
- মাল্টিমিডিয়া প্রধান : আব্দুল কাইয়ুম
বগুড়া জেলার শাজাহানপুর উপজেলার কাগজি পাড়ায় জাস্টিস ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে শীতার্ত অসহায় ও সামর্থ্যহীন মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ৩০ জন দরিদ্র মানুষের হাতে কম্বল ও গরম কাপড় তুলে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, মানবিক সহায়তা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজের লক্ষ্য নিয়ে ইংল্যান্ড প্রবাসী ও কয়েকজন বাংলাদেশী তরুণদের সমন্বয়ে জাস্টিস ফাউন্ডেশন পরিচালিত হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সেনা সদস্য মোহাম্মদ সেন্টু।
জাস্টিস ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালের শীত মৌসুমে। ইংল্যান্ড প্রবাসী এক মহৎ নারী কুরআন তালিম ও টিউশন পড়ানোর অর্থ দিয়ে একটি ক্ষুদ্র পরিসরের ফাউন্ডেশন হিসেবে এর কার্যক্রম শুরু করেন। সময়ের সাথে সাথে মানবিক কাজের প্রতি আগ্রহী বন্ধুদের এবং বিভিন্ন দেশের সমাজসেবীদের একটি গ্রুপ থেকে ফান্ড কালেকশনের মাধ্যমে জাস্টিস ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিস্তৃত আকার ধারণ করে।
চলতি বছর ফাউন্ডেশনটি বাংলাদেশের ২২টি স্থানে প্রায় ৭০০ জন শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
জাস্টিস ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের কল্যাণে নানা ধরনের মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে—
সুদবিহীন ঋণ (কর্জে হাসানা) প্রদান, যাকাত ও ফিতরা বিতরণ, সহীহ কুরআন শিক্ষা ও ইসলামী বই বিতরণ, মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মাণ ও সংস্কার সহায়তা, গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ, টিউবওয়েল স্থাপন ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, শীতবস্ত্র বিতরণ, খাদ্য সামগ্রী ও ঈদ উপলক্ষে খাদ্য ও পোশাক বিতরণ।
এছাড়াও রমাদান মাসে সাহরি ও ইফতার সামগ্রী বিতরণ, বন্যা ও দুর্যোগকালীন জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প ও চিকিৎসা সেবা, হালাল পণ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি (রিকশা-ভ্যান, সেলাই মেশিন, ক্ষুদ্র মূলধন), এতিম ও বৃদ্ধ সহায়তা এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
জাস্টিস ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
শীতবস্ত্র নিতে আসা পিয়ারা বেগম বলেন, শীতের মধ্যে গরম কাপড় জোগাড় করা আমাদের জন্য খুব কষ্টের। আজ কম্বল পেয়ে অনেকটা স্বস্তি পেলাম। এই সাহায্য আমাদের মতো গরিব মানুষের জন্য বড় সহায়তা। আল্লাহ যেন দানকারীদের উত্তম প্রতিদান দেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী খোকন জাস্টিস ফাউন্ডেশনের এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।




