২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

spot_img

দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, দেশের ইতিহাসে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি মজুত রয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকেও জ্বালান সংগ্রহের চেষ্টা করছে সরকার। দেশে এপ্রিল ও মে মাসের জন্য দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে জুন মাসের সম্ভাব্য চাহিদা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে এবং বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা চলছে। আবার পরিশোধন বন্ধ থাকায় পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে মনোযোগ দিয়েছে সরকার। ২০২৯ সাল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের কার্যক্রম শুরু হবে। শিল্প ও কৃষিকে গুরুত্ব দিয়ে বর্তমানে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের সংকটে পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত ১৩ এপ্রিল সর্বশেষ সেখানে পরিশোধন কার্যক্রম চালানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার কারণে প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। দেশে সর্বশেষ অপরিশোধিত তেলের চালান আসে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি। আগামী মে মাসের শুরুতে নতুন চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন এবং চারটি ট্যাংকের তলানিতে থাকা ডেড স্টক ব্যবহার করে কয়েকদিন পরিশোধন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। মূল মজুত ৬ এপ্রিল শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসব বিকল্প উৎসের তেল দিয়েই উৎপাদন চলছিল।

তথ্য মতে, ইআরএল সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করে। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকে তা কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। পাঁচটি ট্যাংকের তলানিতে থাকা প্রায় ৩৩ হাজার টন ডেড স্টক এবং এসপিএম থেকে আনা ৫ হাজার টন তেল দিয়ে এতদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এসব মজুতও শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্রুড প্রসেসিং কার্যক্রম বন্ধ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে বছরে ৬৮ থেকে ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা ইআরএলে পরিশোধন করা হয়। ইআরএল এলপিজি, পেট্রোল, অকটেন, কেরোসিন, ডিজেল ও ফার্নেসসহ মোট ১৬ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন করে। বাকি চাহিদা মেটাতে ভারত ও চীন থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ