১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শাজাহানপুরে ‎প্রেমের ফাঁদে ফেলে মুসলিম তরুণীকে ধর্মান্তরিত ও বিয়ের অভিযোগ

spot_img

মোঃ আব্দুল হান্নান:

বগুড়ার শাজাহানপুরে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে এক মুসলিম তরুণীকে প্রতারণামূলকভাবে ধর্মান্তর ও বিয়ের অভিযোগ উঠেছে হিন্দু যুবক জয়ন্ত কুমার সাহার বিরুদ্ধে। অভিযোগকারী রিমা সুলতানা (৩০) বর্তমানে পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত জয়ন্ত কুমার সাহা (৩২) উপজেলার ডেমাজানি গ্রামের জয় চন্দ্র সাহার ছেলে। ভুক্তভোগী রিমা সুলতানা শেরপুর উপজেলার পারভবানীপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের মেয়ে।

জানা যায়, রিমার প্রথম বিয়ে মুসলিম পরিবারে হলেও পরবর্তীতে তিনি ঘর ছেড়ে অন্য এক যুবকের সঙ্গে বগুড়া শহরের নামাজগড় এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি জানতে পারেন, তার ওই স্বামী আগে থেকেই বিবাহিত। পারিবারিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দ্বিতীয় স্বামীর বন্ধু জয়ন্ত কুমার সাহার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

রিমার অভিযোগ, জয়ন্ত নিজের ধর্মীয় পরিচয় গোপন রেখে তার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন। পরে পরিচয় প্রকাশ হলে আপত্তি জানালে জয়ন্ত ভবিষ্যতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আশ্বাস দেন। সেই শর্তে ২০২৩ সালের ৭ মে মোকাম বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়। একই বছরের ২৩ মে ‘উভয়ে নিজ নিজ ধর্ম পালন করবেন’ মর্মে একটি এফিডেভিট করা হয়।

তবে বিয়ের পর জয়ন্ত ইসলাম ধর্ম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়ে উল্টো রিমাকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন রিমা। এ নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে স্থানীয়ভাবে সালিশের মাধ্যমে কয়েক লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিচ্ছেদের প্রায় আট মাস পর জয়ন্ত পুনরায় রিমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আবারও ইসলাম ধর্ম গ্রহণের আশ্বাস দেন। পরে ২০২৪ সালের ৩ জুলাই বগুড়া শহরের বাদুরতলা প্রেসপট্টি এলাকার ‘শ্রী শ্রী নারায়ণ বিগ্রহ মন্দিরে’ হিন্দু রীতিতে তাদের বিয়ে হয়। ওই সময় জয়ন্ত কৌশলে রিমার কাছ থেকে কয়েকটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরদিন ৪ জুলাই বগুড়া জেলা নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে রিমার ধর্মান্তর ও নাম পরিবর্তন করে ‘রিমা রাণী সাহা’ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি জানতে পেরে নিজেকে প্রতারণার শিকার বলে অভিযোগ তোলেন রিমা। তার দাবি, ধর্মান্তরের বিষয়টি জনসমক্ষে প্রচার বা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়নি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জয়ন্ত কুমার সাহা। তার দাবি, রিমা স্বেচ্ছায় ধর্মান্তরিত হয়ে তাকে বিয়ে করেছেন। প্রথম বিয়ের পর রিমার আগের সংসারে সন্তান থাকার বিষয়টি জানতে পেরে তাদের মধ্যে কলহ তৈরি হয়। পরে তালাক হলেও রিমার পরিবারের অনুরোধে তিনি পুনরায় বিয়ে করেন। বর্তমানে রিমা তাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল বলেন, ধর্ম পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় আসেনি। মূলত ভরণপোষণ না পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে ভুক্তভোগী থানায় এসেছিলেন। পরে তাকে আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকও হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে সমাধানের পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ