১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৫শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ছাত্রী হোস্টেলে মিলল ‘বালতিভর্তি’ যৌন সুরক্ষাসামগ্রী, সুপারসহ দুজনকে অব্যাহতি

spot_img

সুনামগঞ্জের একটি সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বালতিভর্তি যৌন সুরক্ষাসামগ্রী (কনডম) পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর বিক্ষোভের পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এসে শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কলেজের হোস্টেল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন এবং তদন্তের নির্দেশ প্রদান করেন।

এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দিনভর কলেজেটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা কলেজটিতে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, ছাত্রী হোস্টেলের দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্তদের অপসারণ এবং সম্প্রতি ছাত্রী হোস্টেলে বালতিভর্তি যৌন উপকরণ (কনডম) পাওয়া গেছে দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃস্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল কলেজটির ছাত্রী হোস্টেল ভবনে অস্থায়ীভাবে অবস্থান নেয়। ওই সময় হোস্টেলে ছাত্রীরা ছিলেন না। ভবনের বাথরুম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে গিয়ে তারা বালতিভর্তি কনডমের প্যাকেট দেখতে পান বলে দাবি করেন কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থী।

শিক্ষার্থীদের কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মঙ্গলবার রাতে ছাত্রী হোস্টেলে অনৈতিক কার্যক্রম হওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট করেন। বুধবার বেলা ১১টায় কলেজের বর্তমান ও প্রাক্তন বেশ কিছু শিক্ষার্থী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।

মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার কলেজ প্রাঙ্গণে গিয়ে অবস্থান নেয়। বিকেল পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান গ্রহণ করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ছাত্রী হোস্টেলের দায়িত্বপ্রাপ্তদের দোষারোপ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আইনশৃস্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ব্যবস্থা নিতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা এ কর্মসূচি দিতে বাধ্য হন।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ