৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ঈদে বগুড়ার দই বাণিজ্যে দেড়শ’ কোটি টাকা,রপ্তানি বাড়াতে চাই বিমানবন্দর

spot_img

বগুড়া প্রতিনিধি:

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে দেশের ঐতিহ্যবাহী বগুড়ার দইয়ের বাজারে জমে উঠেছে রেকর্ড বেচাকেনা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এবারের ঈদ মৌসুমে জেলায় প্রায় দেড়শ’ কোটি টাকার দই বিক্রি হয়েছে। টানা সাত দিনের ছুটি, পারিবারিক অনুষ্ঠান, ঈদ পুনর্মিলনী এবং অতিথি আপ্যায়নের কারণে দইয়ের চাহিদা ছিল অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।

ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের আগে ও পরে বগুড়ার বিভিন্ন দইয়ের দোকানে ছিল উপচে পড়া ভিড়। শুধু স্থানীয় ক্রেতারাই নন, বিভিন্ন জেলা থেকে আসা চাকরিজীবী ও দর্শনার্থীরাও স্বজনদের জন্য বগুড়ার বিখ্যাত দই কিনে নিয়ে গেছেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে উপহার হিসেবেও দই পাঠানোর প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার ১২টি উপজেলায় রয়েছে সহস্রাধিক দইয়ের দোকান। এর মধ্যে শহর ও আশপাশের এলাকায় রয়েছে চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান। গত কয়েক বছরে গ্রামাঞ্চলেও গড়ে উঠেছে অসংখ্য দই উৎপাদন কেন্দ্র।

বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন মান ও আকারের দই বিক্রি হচ্ছে। ৬০০ থেকে ৬৫০ গ্রাম ওজনের একেকটি দইয়ের পাত্র মানভেদে ১৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই ওজনের সাদা দইয়ের দাম ছিল ২২০ থেকে ৩০০ টাকা।

এশিয়া সুইটসের প্রতিনিধি রেজাউল করিম বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার দইয়ের বিক্রি অনেক বেশি হয়েছে। তবে দুধের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঈদের পর কয়েকদিন কিছুটা বেশি দামে দই বিক্রি করতে হয়েছে।”

আকবরিয়া দই ও মিষ্টির বিক্রয় প্রতিনিধি সাগর কুমার বলেন, “ঈদের দুই দিন আগে থেকে শুক্রবার পর্যন্ত দম ফেলার সুযোগ পাইনি। ক্রেতাদের ব্যাপক চাপ ছিল। এবার বিক্রির পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে।”

আলহাজ মহরম আলী দই ঘরের সহকারী ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন বলেন, “বগুড়ার দইয়ের চাহিদা সারা বছরই থাকে। তবে উৎসবের সময়ে বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। এবারও শত কোটি টাকার বেশি দই বিক্রি হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বগুড়ার দই ইতোমধ্যে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণে প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ ও শিল্প অবকাঠামো। এজন্য বগুড়ায় বিমানবন্দর চালু এবং একটি রপ্তানিমুখী শিল্পাঞ্চল (ইপিজেড) প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে উঠলে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী দই দেশের অন্যতম রপ্তানি পণ্যে পরিণত হতে পারে এবং এ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ