
বগুড়ার কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বগুড়া-নাটোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। রবিবার সকাল ১০টা থেকে শাজাহানপুর উপজেলার জামাদারপুকুর এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় আলোচনা শেষে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা মহাসড়কে রেখে চালকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানান। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় দেড় হাজার যানবাহন আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।
বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, বগুড়া থেকে নন্দীগ্রাম এবং নাটোরের সিংড়া পর্যন্ত সড়কে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে। কুন্দারহাট হাইওয়ে পুলিশ চালকপ্রতি মাসে ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে বলে তারা দাবি করেন। চালকদের অভিযোগ, পুলিশের নিয়োগ করা কিছু ব্যক্তি এ চাঁদা সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত। চাহিদামতো টাকা না দিলে মাঝপথে যাত্রী নামিয়ে দেওয়া, অটোরিকশা জব্দ, মামলা দেওয়া এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি ও মারধরের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অবরোধের খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে। পরে সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসের পর প্রায় দুই ঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তবে চালকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুন্দারহাট হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, “সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে হাইওয়ে পুলিশের চাঁদা নেওয়ার কোনো সত্যতা নেই। কোনো পুলিশ সদস্য এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “শনিবার মহাসড়কে চলাচলকারী একটি সিএনজির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু চালক পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ করেন।”




