
বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর বাজারে এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গভীর রাতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নগদ টাকা ও মালামালসহ প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। আগুনে পুরো প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সব হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ওই ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় বুধবার (১০ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুমন সেখ মিল্টন বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে উপজেলার মথুরাপুর বাজার এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সুমন সেখ মিল্টন উপজেলার শ্যামগাঁতী গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় আট বছর ধরে মথুরাপুর বাজারে মেসার্স ভাই ভাই ক্যামিক্যালস নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন সুমন সেখ মিল্টন। প্রতিষ্ঠানটিতে সার, বীজ ও কীটনাশক বিক্রি করা হতো। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়িতে চলে যান। দোকানে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আগুন লাগার পর মুহূর্তের মধ্যেই পুরো দোকানে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা মালামাল, আসবাবপত্র ও নগদ অর্থ পুড়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দোকানটি প্রায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী সুমন সেখ মিল্টন বলেন, প্রায় আট বছর ধরে কষ্ট করে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছি। এর আগেও আমার দোকানে দুইবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এবার কে বা কারা আগুন দিয়ে আমাকে সর্বস্বান্ত করে দিল। কৃষি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেছিলাম। এখনও ব্যাংকের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা ঋণী। পোড়া মালামাল ছাড়া আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এখন ব্যবসা কীভাবে করব, সংসার কীভাবে চলবে তা ভেবে পাচ্ছি না।
ধুনট ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনের সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর লিখিত অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




