
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে রোগীসেবা নিয়ে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের দাবি, হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে প্রায়ই বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।
সম্প্রতি এক মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে ভোগান্তির অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেন এক স্বজন। অভিযোগে বলা হয়, রোগী পরিবহনের জন্য নির্ধারিত ৩০ টাকা ফি পরিশোধ করে রশিদ নেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো হুইলচেয়ার বা ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্টারে বিষয়টি জানানো হলে তা ‘স্বাভাবিক প্রক্রিয়া’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। পরে একজন হুইলচেয়ার সেবাদানকারী কর্মীকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার পর দ্রুত রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা করা হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীকে নির্ধারিত ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়।
শুধু রোগী পরিবহন নয়, হাসপাতালের কিছু নার্স ও কর্মচারীর আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গে অমার্জিত আচরণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
এদিকে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সময়মতো সেবা পাওয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। রোগীর স্বজনদের ভাষ্য, জরুরি অবস্থায় অনেক সময় চিকিৎসকের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়, যা রোগীর শারীরিক অবস্থাকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মানবিক সেবার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন নাগরিকরা।




