৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

৫০৬ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল ২ হাজার টাকায়, ডিজিএমসহ ৪ জনকে শোকজ

spot_img

মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ১ হাজার ৯৬৩ টাকার পরিবর্তে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দিয়েছে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিস। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিজিএমসহ চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) গ্রাহক সংশোধিত বিল ব্যাংকে পরিশোধ করেন। এর আগে অস্বাভাবিক এ বিল দেখে হতবাক হন গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিলের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে দ্রুত সংশোধিত বিল তৈরি করা হয়।

মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এ বিল ইস্যু করা হয়। বিল অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ৩৯৫ এবং ৮ আগস্টের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০। সে হিসেবে গত মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে ২৩৫ ইউনিট।

কিন্তু ২৩৫ ইউনিটের বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্বাভাবিক চার্জের পাশাপাশি ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ভ্যাট ধরা হয় ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা এবং মিটার ভাড়া ১০ টাকা। সব মিলিয়ে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলটি বেড়ে দাঁড়ানোর কথা ছিল ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।

অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ তা দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬ টাকা।

এ বিষয়ে গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, “এটি শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। এ ধরনের ভুলের কঠোর প্রতিকার হওয়া জরুরি।”

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের কারণে ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যাওয়ায় এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। বিলটি পরে সংশোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার গ্রাহক বিলটি পরিশোধও করেছেন।”

মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. মহিদুল ইসলাম জানান, বিল তৈরির ক্ষেত্রে এমন বড় ভুলের কারণে সংশ্লিষ্ট ডিজিএম মো. রেজাউল করিম ও বিলিং সহকারী সোমা রানীসহ মোট চারজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ