৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২১শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সাপ দেখলেই রাসেলস ভাইপার ভেবে মেরে ফেলা হচ্ছে

spot_img

কুমিল্ল‍া আদর্শ সদরের শালধর এলাকায় গোমতী নদীর চরে রাসেলস ভাইপার ভেবে মারা হয়েছে অজগর সাপ। গতকাল শনিবার সাপটিকে পিটিয়ে মারেন মো. শামীম নামের এক যুবক। সাপটিকে মারার পর ওই যুবক সাপের ছবি ও ভিডিও নিজের মোবাইল ফোনে ধারণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। মুর্হুতের মধ্যে রাসেলস ভাইপার নামে তা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু পড়ে জানা যায়, এটি রাসেলস ভাইপার নয়, অজগর সাপ।

এছাড়া গতকাল শনিবার পটুয়াখালীর বাউফলে রাসেলস ভাইপার ভেবে মেটে সাপসহ তার ১৭টি বাচ্চাও মেরে ফেলা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাপ দেখলেই মানুষ রাসেলস ভাইপার ভেবে হত্যা করছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্বিষ সাপও হত্যা করা হচ্ছে। এভাবে সাপ নিধনে প্রকৃতির ভয়ানক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে দেশজুড়ে রাসেলস ভাইপার সাপ নিয়ে ছড়িয়েছে আতঙ্ক। বিশেষ করে নদীতীরবর্তী কয়েকটি জেলায় সাপটির দেখা মিলছে। অনেক জায়গায় এই সাপের কামড়ে মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তির খবরও জানা গেছে। তবে স্যোশাল মিডিয়ায় সাপটি বিস্তার নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ভীতিকর পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণে সচেতনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ফিরোজ জামান বলেন, ‘রাসেলস ভাইপার সাপটি আগে থেকেই আমাদের দেশে ছিল। এমন নয় যে নতুন করে আসছে। তবে সম্প্রতি এই সাপের বিস্তার হয়তো বেড়েছে। এর পেছনে সামগ্রিকভাবে দায়ী আমরাই। কারণ বন্যপ্রাণী দেখলেই আমরা হত্যা করি। বিশেষ করে গত কয়েক বছরে বেজি, বাগডাশ, গন্ধগোকুল, বনবিড়ালের মতো প্রাণীকেও হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই প্রাণীগুলো সাপ খায়। এদিকে শঙ্খচূড়, গোখরা, কেউটে রাসেলস ভাইপার খায়। কিন্তু এগুলোর সংখ্যা তুলনামূলক কমে যাওয়ায় এখন রাসেলস ভাইপার বাড়তে শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন নির্বিচারে সাপ হত্যার ঘটনা ঘটছে। যা সত্যিই দুঃখজনক ঘটনা। এমনিতেই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আমরা উদাসীন। তার ওপরে এভাবে প্রাণী হত্যার ঘটনা ঘটতে থাকলে প্রকৃতি তার ভারসাম্য হারাবে। এই অবস্থা থেকে বের হতে মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এখন থেকেই পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। নয়তো যেভাবে প্রাণী হত্যা চলছে, তাতে প্রকৃতি ধ্বংস হতে সময় লাগবে না।’

এদিকে রাসেলস ভাইপার নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে সাপ মারাকে দণ্ডনীয় অপরাধ উল্লেখ করে এ থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিবৃতিতে সাপের কামড় এড়াতে করণীয়, সাপের কামড়ের পর করণীয় এবং রাসেলস ভাইপারের প্রাদুর্ভাব কমাতে করণীয় বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ