
মোঃ সজল মাহমুদ,বেতাগী:
এ যেনো এক তুঘলকি কান্ড! যে কেউ অন্য কাউকে স্পর্শ করলেই হচ্ছেন অসুস্থ। তবে কি কারনে অসুস্থ হচ্ছেন তা এখনো সবার কাছেই অজ্ঞাত এক আতঙ্ক। এমনই এক আতঙ্কময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বরগুনার বেতাগী উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। উপজেলার হোসনাবাদ আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ঘটেছে এ ঘটনা। বুধবার সকাল ১০টার পরপরই ওই বিদ্যালয়ে আসা শিক্ষার্থীরা একের পর এক অসুস্থ হতে শুরু করে। এ ঘটনায় অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অভিভাবকদের মাধ্যমে নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়।
একে—একে প্রায় ২৫জন শিক্ষার্থী মুহুর্তেই অসুস্থ হয়ে পরেন। কেউ কান্না করছে, কেউ আবার চিৎকার দিয়ে দৌঁড়ে পালাচ্ছে, আবার কেউ কেউ জ্ঞান হারিয়ে শ্রেণিকক্ষের মেঝেতেই লুটিয়ে পরছে। একজন অন্যজনকে স্পর্শ করলেই দ্বিগুণ মাত্রায় বাড়ে অসুস্থতা। বাস্তবে দেখলে যে কেউ মনে করবে অসুস্থ হওয়ার কোনো এক প্রতিযোগীতা চলছে। তবে অসুস্থ হওয়া শিক্ষার্থীরা সকলেই সপ্তম থেকে দশম শ্রেণিতে পড়–য়া ছাত্রী। ফলে এ ঘটনাকে বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা রহস্যময় মনে করছেন। বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষও এ ঘটনার কোনো সঠিক কারন খুঁজে পায়নি। তবে ঘটনার সাথে পরিকল্পিতভাবে কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে এমনটাই বলছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নান্না মিয়া। তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের সকল শ্রেণিকক্ষ এন্টিসেপটিক দিয়ে পরিস্কার করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞাণে এটি কোনো জটিল বা স্থায়ী সমস্যা নয়। এমন ঘটনা ঘটতেই পারে এসময় শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে বুঝিয়ে শান্ত রাখাটাই উত্তম।‘আবার বিদ্যালয়ের অন্যান্য সুস্থ শিক্ষার্থীরা দিচ্ছেন ভিন্ন ব্যাখ্যা। তারা বলছেন বিদ্যালয়ে আকস্মিকভাবে কোনো অলৌকিক শক্তির প্রভাব পরেছে। যার ফলেই কেউ কেউ উলটাপালটা কথাও বলছেন অসুস্থ হওয়ার পর। আবার কেউ বলছেন ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থান, নন্দিনী কর্ণারের কক্ষে প্রবেশের পর থেকেই ওই শিক্ষার্থীদের এমন অস্বাভাবিক আচারণ ও শারিরিক অস্বস্তি শুরু হয়। এরপরই একে একে অসুস্থ হন অন্তত ২৫জন শিক্ষার্থী।
তবে এ ব্যাপারে চিকিৎসা বিজ্ঞান কি বলছে জানতে কথা হয়, বরিশাল শের—ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে কর্মরত (মেডিসিন বিভাগের) ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. রবিন্দ্রনাথ সরকারের সাথে তিনি বলেন,‘এমন অজ্ঞাত কারনে অসুস্থতার ঘটনা অনেক সময় ঘটে তবে এটি কোনো ধরণের অলৌকিক বিষয় নয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞাণে এ সমস্যার একটি সুন্দর ব্যাখ্যা আছে। এটির বাংলা অক্ষরিক নাম গণমনস্তাত্বিক অসুস্থতা। তবে মানসিক চিন্তা চেতনার প্রভাবে যে কেউ রোগীর মতো আচারণ করতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিশোর— কিশোরীদের মধ্যে এমন প্রভাব বেশি দেখা যায়। আর এটি ছড়িয়ে পরার কারন হলো দলগত মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব। এমন সময়ে সবচেয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ ওই সকল কিশোর—কিশোরীদের কাউন্সেলিং বা মনোবিকলন করা। তদেরকে এটা বুঝাতে হবে যে তারা যা দেখছে বা ভাবছে সেটি সম্পূর্ণ অবাস্তব একটি বিষয়।’




