
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ব্রিকস নেতারা মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি স্থাপনের বিরল আহ্বানে একমত হওয়ার পর নয়াদিল্লিতে সম্মেলনের দ্বিতীয় ও শেষ দিনের আলোচনা সমাপ্ত করেছেন। এ দিন তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে জোর আলোচনা চালান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই জোটের অভ্যন্তরে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এই জোট বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ, বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের ২৫ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধিত্ব করে।
সম্মেলনের শেষ দিনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘ব্রিকসের আসল শক্তি লুকিয়ে আছে আমাদের বৈচিত্র্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে।’
পশ্চিমা শক্তিগুলোর আধিপত্য থাকা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও বেশি প্রভাব সৃষ্টির লক্ষে ২০০৯ সালে প্রধান উদীয়মান অর্থনীতির ফোরাম হিসেবে ব্রিকস গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে জোটটি তাদের বৈশ্বিক প্রভাব বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংঘাত, বাণিজ্যিক অস্থিরতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের বিষয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমরা এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের বাস্তবতা বা প্রেক্ষাপট আলাদা হতে পারে, তবে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই আমরা একত্রে বিকশিত হই এবং মানবজাতির কল্যাণে নিজেদের উজাড় করে দিই।’
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন জানান, ব্রিকস জোট একটি নতুন, আরও ন্যায়সংগত এবং বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, নিয়মহীন এক পৃথিবী যেন ট্রাফিক লাইট ছাড়া কোনো ব্যস্ত মোড়ের মতো; যেখানে বিশৃঙ্খলা এবং নৈরাজ্য অনিবার্য।
সর্বোচ্চ আত্মসংযম
শনিবার শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিষয়েই আলোকপাত করেছিল।
গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকস জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যখন বৈঠকে বসেছিলেন, তখন সদস্য রাষ্ট্র ইরান, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মে মাসের শেষ নাগাদ (২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর) শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে মতভেদের কারণে তারা কোনো যৌথ বিবৃতিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন।




