৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের, মেয়ে বললেন স্বামীর সঙ্গে আছি’

spot_img

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার আদমদীঘিতে নিজের মেয়েকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন মো. রানা মাসুদ নামের এক পুলিশ কনস্টেবল। তবে ভুক্তভোগী মেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে দাবি করেন, ‘তাকে অপহরণের অভিযোগটি মিথ্যা। তিনি স্বামীর সঙ্গে স্বেচ্ছায় আছেন।’

পুলিশ সদস্য মো. রানা মাসুদ ২২ বছর ধরে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত এবং বর্তমানে আদমদীঘি থানায় সংযুক্ত রয়েছেন। গত ১ মে তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়ে তাসনিয়া রানা তামান্নাকে (১৭) সকাল ৭টার দিকে অপহরণ করা হয়েছে। তিনি বিষয়টি প্রথমে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) জানান এবং পরে মামলা করতে চান।

কনস্টেবল রানা মাসুদের অভিযোগ, মামলা নিতে ঘুষ দাবি করেন ওসি। পরে বিষয়টি তিনি ডিআইজিকে জানালে প্রথমে জিডি ও পরে মামলা রুজু হয়। কিন্তু এক মাসেও তার মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এতে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি একজন পুলিশ সদস্য। আমি বিচার পাচ্ছি না। তাহলে দেশের সাধারণ জনগণ কিভাবে বিচার পাবে।’ অবশেষে অপহৃত মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এদিকে, এর আগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারিও ওই কিশোরী বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। ওই ঘটনায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবির সোনাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে শহিদ হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় এবং পরে তাকে পিতার জিম্মায় দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে তামান্না জানান, অভিযুক্ত শহিদ হোসেনের সঙ্গে তার প্রায় চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করছেন। তদন্ত শেষে ডাক্তারি পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ১ মে আবারও সকাল ৭টার দিকে মেয়েটি চলে গেলে তার বাবা পুনরায় অপহরণের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ৭ মে আদমদীঘি থানায় নতুন একটি মামলা রুজু হয়।

এদিকে ভুক্তভোগী তামান্না তার ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, ‘আমার নামে অপহরণের যে মামলাটি দেওয়া হয়েছে এটি পুরোটাই মিথ্যা, ভুল এবং বানোয়াট। বাবা একজন পুলিশ কনস্টেবল হয়ে নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা, গুজব ছড়াচ্ছেন। আসলে আমার হাজবেন্ডের সঙ্গে ৪ বছরের সম্পর্ক। বাবা এবং আমাদের পরিবারের সদস্যরা এটা মেনে নিচ্ছেন না। এজন্য আমার হাজবেন্ডের নামে পোস্টার ছাপাচ্ছে। তারা যা করছে, সব মিথ্যা।’

এ বিষয়ে আদমদীঘি থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘ঘুষ দাবির বিষয়টি মিথ্যা। পুলিশের মেয়ে মানে সে আমাদেরও মেয়ে। যথাসময়ে তার মামলা নেওয়া হয়েছিল। তারপরও তিনি মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে কন্সটেবল রানা মাসুদ থানায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তার মামলাটি ডিবিতে তদন্তাধীন।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ