
ঢাকা থেকে মো: হাছিব সরদার: সুন্দরবন ক্ষতিসাধনে যারা যুক্ত তাদের শাস্তি প্রদান করতে হবে। স্থানীয় জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে পুনরায় কৌশলগত প্রতিবেশ সমীক্ষা ( এসইএ ) সম্পন্ন করতে হবে। বিদ্যমান কয়লা ও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোকে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করতে হবে। মিথ্যা সমাধান বা অপ্রমাণিত প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। জনমূখী, পরিবেশবান্ধব, পরিবেশগতভাবে ভারসাম্যপূর্ণ এবং জলবায়ু সহনশীল নীতিকাঠামো এবং কৌশলগুলির বিকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান এবং জনগোষ্ঠীর মধ্যে পারষ্পারিক আলোচনা এবং অংশীদারিত্বের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
১৫ সেপ্টেম্বর রবিবার, সকালে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ’র চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র উপস্থাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’র সমন্বয়ক শরীফ জামিল মূখ্য বক্তার বক্তৃতায় একথা বলেন।
রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশের সহ আহ্বায়ক বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা এমএস সিদ্দিক। সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটাকিপার মোঃ নূর আলম শেখ, এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ (ইআরডিএ)-এর নির্বাহী পরিচালক মনির হোসেন চৌধুরী, গণস্বাক্ষরতা অভিযানের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি বিভাগের উপ-পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান, উপকূল এবং সুন্দরবন সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, গ্লোবাল ল’থিংকারস সোসাইটি’র প্রেসিডেন্ট রওমান স্মিতা, বারসিক এর সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইযুথ নেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস এর নির্বাহী সমন্বয়ক সোহানুর রহমান এবং 350.Org এর বাংলাদেশের সমন্বয়ক আমান উল্লাহ্ পরাগ প্রমূখ।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আমরা দায়ী। আমরা কেন এই জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম। নদীর জায়গা দখল করে গড়ে উঠা স্থাপনা এবং কারখানা উচ্ছেদ করতে হবে। তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে জলবায়ু তহবিলের অর্থের ব্যয়ের দুর্নীতি বন্ধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে এমএস সিদ্দিকী বলেন, ট্রান্সবাউন্ডারি নদীর দেশগুলোকে নদীর সমান হিস্যার জন্য কাজ করতে হবে। সরকারকে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান বলেন, উন্নত দেশগুলো অধিকাংশ কার্বন নির্গমন করছে। আর আমরা প্রাচ্যের দেশগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমরা ন্যায্যতা পাচ্ছি না। তাই বৈষম্য নিরসনে আমাদের আওয়াজ তুলতে হবে। উল্লেখ্য, গত ১৭-১৮ নভেম্বর ২০২৩-এ অনুষ্ঠিত প্রথম “জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ ২০২৩” এ প্রায় এক হাজার একশত প্রতিনিধি এবং ১৩ জন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নেতা অংশ নেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের বেসরকারি উপদেষ্টা এমএস সিদ্দিকী এবং জলবায়ু ন্যায্যতা সমাবেশ আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল এর নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রণালয়ে গিয়ে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা শারমীন এস. মুরশিদ এর নিকট চুড়ান্ত ঘোষণাপত্রের কপি হস্তান্তর করেন। প্রতিনিধি দলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন বায়ুমন্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস)-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা, সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটাকিপার মোঃ নূর আলম শেখ ও 350. org এর বাংলাদেশের সমন্বয়ক আমান উল্লাহ্ পরাগ।




