১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১লা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৯শে রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

হিমাগারে পচল ৩০ হাজার মণ আলু

spot_img

বেশি লাভের আশায় হিমাগারে দীর্ঘদিন জমা রাখা প্রায় ৩০ হাজার মণ আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। মাদারীপুর বিসিক শিল্পনগরী এলাকার ‘মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজে’ এ ঘটনা ঘটে। নষ্ট হওয়া আলুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কারণ অনুসন্ধানে ৫ কার্যদিবসের সময় বেঁধে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

কোল্ড স্টোরেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হিমাগারের মালিক মীর হাবিবুর রহমান বেশি মুনাফার আশায় ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৬০ কেজি ওজনের প্রায় ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার বস্তা (১২ লাখ কেজি) আলু জমা রাখেন। তবে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাজারে আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় আলুগুলো হিমাগারেই থেকে যায়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় হিমাগারের ভেতরেই আলুর পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। নষ্ট হয়ে যাওয়া এসব আলু এখন লোকালয়ে ফেলে পরিবেশ দূষণ না করে স্থানীয় কৃষক ও খামারিদের মাঝে পশুখাদ্য হিসেবে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে।

আলু পচে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ হিমাগার কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাপমাত্রা নষ্ট হয়ে এমনটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান এনে হিমাগার পরীক্ষা করার পরই আলু নষ্ট হওয়ার সঠিক কারণ জানা যাবে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।

এদিকে এই বিপুল পরিমাণ আলু বাজারে না আসায় স্থানীয় বাজারে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজারের চাহিদা মেটাতে ব্যবসায়ীদের এখন অন্য জেলা থেকে বাড়তি পরিবহণ খরচে আলু আনতে হচ্ছে, যার ফলে বাজার খরচও বেড়ে গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মতে, অধিক লাভের আশায় দীর্ঘদিন আলু আটকে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বাজারের চাহিদা, সরবরাহ এবং হিমাগারে রাখার মেয়াদ বিবেচনা না করলে লাভের বদলে পুরো মূলধনই লোকসানের মুখে পড়ে। মাদারীপুরের এ ঘটনাটি কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে ছাড়ার প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় মনে করিয়ে দিচ্ছে।

মাদারীপুর কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল করিম জানান, দীর্ঘদিন স্টোরেজে থাকার কারণে আলুর টেম্পারেচার (তাপমাত্রা) নষ্ট হয়ে গেছে। তাই আলুর এ অবস্থা। এসব আলু খোলা জায়গায় ফেললে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বিনামূল্যে খামারি ও কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিজ মর্জিনা আক্তার জানান, হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু পচে যাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বাধিক জনপ্রিয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন -spot_img

সর্বশেষ