
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের পারমাণবিক অচলাবস্থা নিরসনে বড় ধরনের কূটনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী আইআরজিসি (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানানো হয়েছে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পুনরায় পারমাণবিক আলোচনা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের আশঙ্কার মাঝেই কূটনীতির জানালায় নতুন হাওয়া বইতে শুরু করলো। ইরানি সরকারের বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন যেন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে , প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এই আলোচনা কেবল ‘পারমাণবিক ইস্যু’ বা নিউক্লিয়ার ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ, আঞ্চলিক রাজনীতি বা ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মতো অন্যান্য বিতর্কিত বিষয়গুলো এই আলোচনার এজেন্ডায় আপাতত থাকছে না।
ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিজি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম থেকে এই তথ্য আসায় ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির সামরিক ও ধর্মীয় উচ্চমহলের এতে প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত পাঁচ দফা পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চালিয়েছে, যা গত বছর মে মাসের পর থেকে কার্যত থমকে ছিল। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং ইরানের ওপর ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে তেহরানের এই সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইরানের ওপর আরোপিত ‘অন্যায় নিষেধাজ্ঞা’ তুলে নেয়ার ওপর জোর দিয়ে আসছিলেন। দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে এবং পশ্চিমাদের সাথে সরাসরি সংঘাত এড়াতে আলোচনা শুরু করা তেহরানের জন্য এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র এখনও এই খবরের ওপর কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে তুর্কি ও ইউরোপীয় মধ্যস্থতাকারীরা এই আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে পর্দার আড়ালে কাজ করে যাচ্ছেন। এখন দেখার বিষয়, তেহরানের এই ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কেমন সাড়া পায়।




